মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পছন্দের রং কি.? মুসলিম হিসাবে সবার জানা প্রযোন

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। আল্লাহ তাআলা আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তা। তিনি যদি তাঁকে সৃষ্টি না করতেন, তাহলে এই জগতের কোনো কিছুই আর সৃষ্টি করতেন না। মহামহিম আল্লাহর যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ

সৃষ্টি, তাঁর আখলাক চরিত্র ও নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠতম। আমাদের নবী পাক (সা.) অত্যন্ত রং-সচেতন ছিলেন। রাসুল (সা.)-এর জীবনের অনুপম চরিত্রমাধুরীর ওপর যুগে যুগে বহু গ্রন্থ লেখা হয়েছে। এর মধ্যে মুহাদ্দিস হাফিজ আবু মুহাম্মদ আবু শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ জাফর ইবনে হায়্যান আনসারি

ইসফাহানির আখলাকুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া আদাবিহি খুবই গ্রহণযোগ্য একটি গ্রন্থ। এ গ্রন্থে উদ্ধৃত নবীজির পোশাক-পরিচ্ছদসংক্রান্ত কিছু হাদিসের সূত্র থেকে জানা যায় তাঁর পছন্দের রং সম্পর্কে। হজরত আবু হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী (সা.) বাইরে বের হলে তাঁর গায়ে লাল ডোরাবিশিষ্ট পোশাক ছিল এবং তা তাঁর পায়ের নলা পর্যন্ত ওঠানো ছিল। আরেকটি হাদিসে বলা হচ্ছে, হজরত উরওয়া

(রা.) বলেন, যে পোশাক পরিধান করে রাসুল (সা.) বহিরাগত প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতেন, তা ছিল একখানা সবুজ চাদর ও জুব্বা। চাদরখানার দৈর্ঘ্য ছিল চার হাত এবং প্রস্থ ছিল দুই হাত ও এক বিঘত। নবীর সেই জুব্বা বরকত লাভের জন্য বর্তমানে খলিফাদের কাছে সংরক্ষিত। জুব্বাটি খুবই পুরোনো হয়ে গেছে। সংরক্ষণ ও সাবধানতার জন্য তাঁরা সেটিকে ভাঁজ করে আরেকটি কাপড়ের মধ্যে রেখেছেন। তাঁরা কেবল ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় তা ব্যবহার করে থাকেন। ইসমাইল ইবন

আবদুল্লাহ ইবন জাফর (রা.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-এর পবিত্র দেহে হলুদ রঙের দুখানা কাপড় দেখেছি।’ আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-এর একটি হলুদ রঙের লেপ ছিল। তাঁর স্ত্রীগণ পালাক্রমে সেটি ব্যবহার করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত যে একবার নবী (সা.) কালো রঙের ডোরাবিশিষ্ট চাদর পরিধান করলে হজরত আয়েশা (রা.) বললেন, ‘আপনার গায়ে এই কালো চাদরখানা কী সুন্দরই না মানিয়েছে! আপনার দেহের লাল-সাদামিশ্রিত রং চাদরের কালো

রংকে অধিক ফুটিয়ে তুলছে এবং কালো রং আপনার শরীরের লাল-সাদামিশ্রিত বর্ণকে আরও দীপ্তিময় করে তুলছে।’ হজরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) কোনো কোনো সময় সাদা টুপি পরিধান করতেন। ইসমাইল ইবন আবদুল্লাহ ইবন জাফর (রা.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন, ‘আমি নবী (সা.)-কে দুইখানা জাফরানি রঙের কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। কাপড় দুইখানার একখানা ছিল চাদর এবং অন্যখানা পাগড়ি।’ হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-এর ছোট পতাকা ছিল সাদা এবং বড় পতাকা ছিল কাল। সেটি হজরত আয়েশা (রা.)-এর চাদর দিয়ে তৈরি ছিল এবং তার ওপর উটের পালান বা খাটনির নকশা ছিল।

এসব হাদিস থেকে একটা বিষয় খুবই পরিষ্কার, রাসুল (সা.) খুবই রং-সচেতন ছিলেন। তিনি তাঁর ব্যবহার্য জিনিসপত্রে সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দিতেন বলেই তাঁর যাপিত জীবনে অনেক নমুনা পাওয়া যায়। মানুষের একঘেয়েমি জীবনে বিচিত্রতার জন্য অবশ্যই রঙের বাহারি ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে। আর রং হলো মানুষের দর্শনসংক্রান্ত একটি চিরন্তন ধর্ম। ইসলামে মনুষ্য এবং প্রাণিজ চিত্র নির্মাণ নিষিদ্ধ হলেও পারস্য এবং তুরস্কে ইসলামি চিত্রকলা একটি বিশেষ ব্যঞ্জনায় রূপ লাভ করেছে। ইসলামে শিল্পবৃত্তি অন্তরের প্রেরণায় অনুভূতির তাৎপর্যে বাইরের পৃথিবীতে দৃশ্যমানরূপে বিভিন্ন সৃজনশীলতায় চিহ্নিত হয়েছে। বিভিন্ন মুসলিম দেশের পতাকা,

কাবার কালো পাথর, ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, কাফনের সাদা কাপড় ব্যবহার, বেহেশতে সবুজ ইয়াকুত পাথরের বর্ণনা, কালো পাগড়ি ব্যবহার—এসব কিছু প্রমাণ করে রঙের বিচিত্রতায় সমৃদ্ধ এই ধর্ম। তবে মার্জিত, শান্ত ও স্নিগ্ধ প্রলেপের রঙের দিকেই ইসলামের অনুসারীদের মনোযোগ বেশি। মুসলিম শিল্পীরা একটি নিরঙ্কুশ নিখুঁত সৌন্দর্য নির্মাণের প্রয়াস পেয়েছিলেন। তবে এ সৌন্দর্য গ্রিকদের মতো শরীরী সৌন্দর্য নয়, এ সৌন্দর্য ছিল আবহের সৌন্দর্য। তাই তারা বিভিন্ন রঙের সুচারু বিন্যাসে এবং জ্যামিতিক রেখাঙ্কনের অত্যন্ত দীপ্ত পরিমাপে এই আবহকে সৃষ্টি করেছিলেন। এই প্রভাব অনেকের ওপর ভর করেছিল, যেমনটি ঘটেছে আধুনিক শিল্পী মাতিসের ক্ষেত্রে। মুসলিম শিল্পীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তাঁদের ব্যবহৃত নীল রংকে নতুন তাৎপর্যে ইউরোপের চিত্রকর্মে ব্যবহার করতে থাকেন।

About Gazi Mamun

Check Also

ঘরে ঘরে পবিত্র কুরআনুল কারিমের পাণ্ডুলিপি বিতরণ করছে দক্ষিণ আফ্রিকা

আর পবিত্র এই মাস উপলক্ষে ঘরে ঘরে পবিত্র কুরআনুল কারিমের পাণ্ডুলিপি বিতরণ করছে দক্ষিণ আফ্রিকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *