কে এই শাহজাহান খান যিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের প্রস্তাব করেছেন?

কে এই শাহজাহান খান যিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিলের প্রস্তাব করেছেন?
সে কি জিয়াউর রহমানের চেয়ে বড় মুক্তিযোদ্ধা? শাহজাহান খান ছিলেন জাসদের নেতা। ১৯৭৩ সালে তিনি

জাসদের হয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদের পাতানো নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। এরপর খোলস পাল্টে ১৯৯৬ সাল থেকে (সপ্তম সংসদ নির্বাচন) তিনি নৌকায় ভিড়েছেন। এবং এখন তিনি বড় আওয়ামীলীগ হয়েছেন যে লোকের আওয়ামীলীগ

ও বঙ্গবন্ধুর জন্য এতো মায়া, সেই লোক কিভাবে আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে গিয়ে ৭৩ এর নির্বাচন করেন? আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বঙ্গবন্ধুর হত্যার পিছনে জাসদ কিভাবে ক্ষেত্র তৈরি করেছিলো, সেটি তার এক বক্তব্যে তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেছিলেন জাসদই বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ক্ষেত্র তৈরি করেছিল।

স্বাধীনতাবিরোধীরা কখনো বঙ্গবন্ধুর ওপর আঘাত হানতে পারত না, যদি এই গণবাহিনী, জাসদ বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করে বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি করে, মানুষ হত্যা করে, এমপি মেরে পরিবেশ সৃষ্টি না করত। সুতরাং বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল রহস্য বের করতে হবে, কারা কারা জড়িত ছিল।’ সূত্রঃ প্রথম আলো, ২৩ আগস্ট, ২০১৫ সেই সময়কার জাসদ নেতা ও বর্তমান আওয়ামীলীগ নেতা শাহজাহান খানের বিষয়ে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর

রহমান নিক্সন চৌধুরী বলেছেন, ‘শাজাহান খানকে আমি আওয়ামী লীগ নেতা মনেই করি না। আমি এখনও উনাকে জাসদ নেতাই মনে করি। তিনি আরও বলেন, ‘শাজাহান খানের শরীর থেকে এখনও জাসদের গন্ধ যায়নি। উনি গণবাহিনী করতেন। আমি চ্যালেঞ্জ করলাম উনি গণবাহিনী করতেন। বইয়ে লেখা আছে উনি গণবাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। সাবেক নৌমন্ত্রীর সম্পদ যাচাই করে দেখার কথা উল্লেখ করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘মাদারীপুরে তিনি ১০ তলা বিল্ডিং বানিয়েছেন অনুমতি ছাড়া। আজকে নৌমন্ত্রী

হওয়ার পর উনার চাচার ঘরের দাদা কোটি কোটি টাকার মালিক। আজকে ‘সার্বিক’ বাসের মালিক তারা। পেট্রোল পাম্পের মালিক। তার ১০ বছর আগে কিছু ছিল না। আজকে তার সম্পত্তি কি হয়েছে! বিদেশে হসপিটাল বানাচ্ছে কোটি কোটি টাকা দিয়ে। আমার তো মনে হয় তার সম্পত্তি ১০ বছর আগে কি ছিল, এখন কি হয়েছে সেটা দেখা উচিৎ সূত্রঃ সময়নিউজ.টিভি, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ যে গণবাহিনীর কারণে বঙ্গবন্ধুর হত্যার ক্ষেত্র তৈরি হলো, সেই গণবাহিনীর লোকও আওয়ামীলীগ প্রেমী হয়ে গেলো? এটা দল না ক্ষমতার প্রতি ভালবাসা? তিনি সেই শাজাহান খান, যার বক্তব্য ও এক হাসিতেই ক্ষুব্ধ হয় শিক্ষার্থীরা এবং সারা বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন শুরু হয়। সেসময় তিমি

বলেছিলেন, ‘গতকাল আপনারা লক্ষ্য করেছেন, ভারতের মহারাষ্ট্রে একটা গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করে ৩৩ জন মারা গেল৷ কই ওখানে তো এভাবে কেউ কিছু বলেনি?’ সূত্র: DW, ৭ জুলাই, ২০১৮ অথচ এই শাহজাহান খানই গতকাল জামুকার সভায় জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের প্রস্তাব তোলেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের খেতাব বাতিল করা হলে কেন জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিল করা হবে না। তিনি তাঁর এই বক্তব্যের সপক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। পরে জামুকার সভার সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীসহ অন্য সদস্যরা শাজাহান খানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন তখনকার জাসদ নেতাদের পরবর্তীতে

খোলস পাল্টিয়ে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগের প্রতি ভালবাসা সত্যি উদ্বেগের জন্ম দেয়। জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিল করা তো নয়, বরং পক্ষান্তরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করা তাদের মূল উদ্দেশ্য। যেমনিভাবে তখন তারা স্বয়ং বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো। যুগে যুগে এসব লোক ক্ষমতার জন্য কখনো বঙ্গবন্ধু, কখনো জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।

About Gazi Mamun

Check Also

পরিস্থিতি ভয়ানক :নতুন সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কাল

দেশে বেড়েই চলেছে করোনার প্রকোপ। কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ভয়াবহতা। অপরদিকে সরকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *