কারাগারে শাহেদকে এড়িয়ে চলেন বন্দিরা

করোনাভাইরাসের পরীক্ষা জালিয়াতি করে ধরা ‘বহু বিচিত্র প্রতারক’ মো. সাহেদুল করিম ওরফে শাহেদকে কারাগারের অন্য বন্দিরা এড়িয়ে চলেন। ‘কথায় পটু’ শাহেদকে দেখলেই বন্দিদের মধ্যে এক ধরনের সতর্কতা দেখা যায়।

তবে কারাগারে অন্য বন্দিদের মতোই সাদামাটা দিন কাটে সাহেদের। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বছরের ২০ জুলাই করোনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সাহেদকে সাতক্ষীরা

সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে প্রায় ৪৪টি মামলা করা হয়। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় একটি ও সাতক্ষীরা জেলায় একটি মামলা করা হয়েছে। বিরুদ্ধে করা ৪৪টি মামলায় মধ্যে ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীন এবং ২০১০ সালে করা চেক জালিয়াতির

একটি মামলায় ছয়মাসে সাজা হয়েছে। ৪৪টি মামলার মধ্যে আটটি মামলায় সাহেদ জামিন পেয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন সাহেদ। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাধারণ কয়েদির মতোই জীবনযাপন তার। তবে চট্টগ্রাম ও সাতক্ষীরা জেলায় তার নামে মামলা থাকায় তাকে মাঝে মধ্যে সেখানে হাজিরা দিতে নেওয়া হয়।

সাজা হওয়ার পর থেকে সাহেদ কারাগারে একটি কক্ষে সাধারণ কয়েদির সঙ্গে থাকেন। জেল থেকে বরাদ্ধ করা খাবার খেয়ে থাকেন। তবে জেল কোড অনুযায়ী যে কোন প্রিজন ক্যান্টিন থেকে খাবার কিনে খেতে পারেন। সাহেদ অবশ্য জেলখানায় বসে সেই সুযোগটি নিয়ে থাকেন। তবে তার দিকে ২৪ ঘন্টা নজরদারি করা হয়। জেলের অন্য বন্দিরাও তার থেকে দুরে থাকার চেষ্টা করেন।

ভাবটা এমন যেন প্রতারক থেকে সাবধান। কারাগারের একটি সূত্র জানায়, খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস রয়েছে সাহেদের। ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা পড়ে আর অন্য বন্দিদের সঙ্গে গল্পগুজব করে সময় কাটে সাহেদের। এছাড়াও কারাগারের মধ্যে ঘোরাফেরা করেন। সময়মতই খাবার খান তিনি। এ ব্যাপারে ঢাকা কেন্দ্রীয়

কারাগারের জেলার মো. মাহবুবুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, সাহেদ জেলকোড অনুযায়ী সাধারণ বন্দিদের মতোই থাকেন। জেলখানায় দেওয়া খাবার খান। তবে ইচ্ছা করলে তিনি প্রিজন ক্যান্টিন থেকেও খাবার কিনে খেতে পারেন।

About Gazi Mamun

Check Also

৪০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনলেন ব্যারিস্টার সুমন, বললেন ‘ঋণ করে ঘি খাওয়া’

জীবন তো একটাই, বার বার আসবে না। করোনায় অনেক কোটিপতি চলে গেছেন সঙ্গে কিছুই নিতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *