হেফাজতকে সমর্থন দিয়ে এবার চাঁদপুরে ছাত্রলীগ সহ-সভাপতির পদত্যাগ

মাহফুজুর রহমান, চাঁদপুর প্রতিনিধি- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ‘ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উপর সহিংসতার ঘটনা’ এবং হেফাজতের চলমান আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন চাঁদপুরের

হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) নিজের ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে ‘বিদায় ছাত্রলীগ লিখে’ তিনি ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ঘোষণার পরেই এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে তৃণমূল ছাত্রলীগসহ

সর্বস্তরের নেতাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সমালোচনার মুখে কয়েক ঘন্টা পর স্ট্যাটাসটি ফেসবুকে আর না দেখা গেলেও সেটির স্কিনশর্ট শেয়ার করে মঙ্গলবার দিনগত রাতে ‘সকলের দৃষ্টি আর্কষণ করছি’ জানিয়ে ফের আরেকটি পোস্ট দেন আতিকুর রহমান। সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রিয়

ফেসবুকবাসী, আমার আইডি থেকে একটি পোষ্ট প্রচার হবার কারণে অনেকেই আমার উপর ক্ষীপ্ত হয়েছেন, নানাভাবে পোষ্ট করেছেন এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আপনারা দয়া করে বিষয়টিকে সহজভাবে দেখবেন বলেই আমার বিশ্বাস। আর হ্যাঁ, আমি মুসলিম, আমার কাছে আমার ধর্মটাই সবার আগে প্রাধান্য পাবে। কারণ আমি এই করোনাকালীন সময়ে বুঝেছি, এই ক্ষুদ্র

জীবন আসলে কিছুই না। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে না পারলে ইহকাল পরকাল দুটোই বৃথা।’ সেখানে তিনি লিখেন, ‘আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন দেখতাম আমার বাবা কিভাবে রাজনীতি করেছেন। আমার পরিবার একটি রাজনৈতিক পরিবার সেটা আপনারা সবাই জানেন। আমার বাবা এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। একসাথে অনেক মামলার আসামি হয়েছেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বাবা নিজের জীবনবাজী রেখে কাজ

করেছেন দলের জন্য। ক্রসফায়ারের সম্মুখীন হয়েছেন।’ লেখায় বর্তমান প্রেক্ষাপটকে ভিন্ন আখ্যা দিয়ে তিনি আরও জানান, ‘আমার কাছের কিছু ত্যাগী সহপাঠি আছেন যারা দলের প্রতিটি কাজ সুষ্ঠভাবে পালন করছেন। অথচ রাজনীতিতে তাদের কোন মূল্যায়ন হচ্ছে না। এসব ত্যাগী দলীয় মানুষদের কাছে আমি নিতান্তই নগন্য একজন কর্মী। উনাদের দলের প্রতি ত্যাগ এবং ভালোবাসার কাছে আমি কিছুই না।’

ছাত্রলীগের পদ ছাড়ার ব্যাখা দিয়ে আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমি বর্তমানে আমাদের ছাত্র রাজনীতি নিয়ে হতাশ হয়েছি। তাছাড়া অন্যদল বা কুচক্র মহলের কথা নাইবা বললাম। যেখানে ত্যাগী ছাত্র নেতারা আজ লাঞ্চিত এবং হতাশ। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অশিক্ষিত নেতার পিছনে রাজনীতি করতে হচ্ছে। আমি আমার দলকে ভালবাসি। দলের কিছু মানুষকে ভালোবাসি না, যারা সঠিক সময়ে সঠিক কথা বলে না, বরং তেলবাজি এবং

মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। বামপন্থী কিছু মানুষ ধর্ম নিয়ে বাজে কথা বললে, আমি তার প্রতিবাদ করলেও দলের অনেকে রাগ হয়ে যায়। আমাকে বিভিন্নভাবে কটু কথা বলে। তাছাড়া নবীর সুন্নাহ, দাড়ি টানাটানির ছবিটা আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে। তাই অনেকের প্রতি অভিমান করে আমি গতকাল পোষ্ট করেছিলাম। যেটা পরে ভাবলাম দেশের এই নাজুক পরিস্থিতিতে এটা মোটেও ঠিক হয়নি। যদিও পরবর্তীতে বিষয়টা আমার সাংগঠনিকভাবে এগুনো উচিত

ছিল। আর হ্যাঁ, আমি আমার পোষ্টটি শেয়ার করার জন্য কাউকে উৎসাহিত করি নাই। বরং পাবলিকই আমার এই পোষ্ট স্বেচ্ছায় ভাইরাল করে, যা আমি মোটেও ভালভাবে নেইনি। এবং যথাশীঘ্রই দেশ ও দলের কথা ভেবে আমি পোস্টটি ডিলিট করে দিই। আমি প্রিয় বঙ্গবন্ধুর এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংগঠনের সকল নেতা কর্মী এবং উপজেলাবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আপনারা দয়া করে আমার ভুলগুলোকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

তাছাড়া আমি কি করেছি দলের জন্য তা বলতে চাই না। সেটা আপনারা বলবেন। তবে এটা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবো দল থেকে আমি সহ-সভাপতি পদটি ছাড়া আর কিছুই পাইনি। নিজের টাকা খরচ করে যেটুকু সম্ভব হয়েছে দলের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। আজ পর্যন্ত দলের কোন সুবিধা ভোগ করিনি।’
বাকি জীবনটা ইসলামের পথে থাকতে চান জানিয়ে তিনি আতিকুর রহমান লিখেন, আমি শুধুমাত্র আমার ধর্ম নিয়ে কাটাতে চাই। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলা গড়তে কোন পোষ্ট পদবী লাগবে না।

ইনশাআল্লাহ নিজের জায়গা থেকে দেশ ও মানুষের সেবায় যাতে কাজ করে যেতে পারি, সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আর আমি মিথ্যে বলতে পারবো না। তাই সত্যটা তুলে ধরলাম। বিচার আপনাদের’। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ মোহন গাজী সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ‘২০১৫ সালে আমাদের ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হয় এবং ২০১৮ তে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। দলের জন্য ত্যাগ-শ্রম ও ব্যাকরাউন্ড বিবেচনা করেই আমাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। সে আমাদের সাথেই আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলো এবং তারা

পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ও তার বাবা দুর্দিনের কান্ডারী ছিলেন। কিন্তু আতিকুর রহমান হঠাৎ কিভাবে ভিন্নমতে চলে গেল সেটা আমাদের জানা নেই।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন, কিন্তু দুই-একজন পথভ্রষ্টদের দায় সংগঠন নিতে পারে না। তাই এ বিষয়ে দলীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিয়াজী বলেন, ‘বিভিন্ন প্রোগ্রাম-অনুষ্ঠানে আতিককে আমি দেখেছি, তবে ওর সম্পর্কে আমার ভালোভাবে জানা নেই। আতিকের বাবা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে আন্দোলন সংগ্রামে দলের জন্য অনেক অবদান রেখেছে।’ এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বারবার চেষ্টা করেও আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।

About Gazi Mamun

Check Also

কুমিল্লার ঘটনা মনে হয় ফখরুল সাহেবই ভালো জানেন: তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা- তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *