ক্ষমা না চাইলে হেফাজতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার হুঁশিয়ারি ছাত্রলীগের

হেফাজতে ইসলামের সহিংসতা ও তাণ্ডবের ঘটনায় মিথ্যাচার করায় অবিলম্বে হেফাজত নেতাদের নিঃশর্ত ক্ষমার আহবান জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের নেতারা। ক্ষমা না চাইলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করার হুঁশিয়ারি

দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাণ্ডবের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন। গত ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের হরতাল চলাকালে হামলা, ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব পরিদর্শনে এসে হেফাজতে ইসলামের জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর সাজেদুর রহমান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাণ্ডবের সঙ্গে সংগঠনটির কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করেন। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে শোভন বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের নেতারা ঘটনার শুরু থেকেই মিথ্যা বলে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। “হেফাজতের কেউ তাণ্ডবে জড়িত নয়” এমন দাবিকে নিছক মিথ্যাচার ও অপরাজনীতি বলে মনে করে ছাত্রলীগ।’ ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, ‘গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ তিন দিনে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চালানো তাণ্ডবের ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে। এসবের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি আমাদের সবার কাছেই সংরক্ষিত আছে। ফেসবুকে সয়লাব হয়ে আছে তাদের ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র। তাদের মিথ্যা বক্তব্য ধর্মপ্রাণ মানুষকে মর্মাহত করেছে।’

শোভন বলেন, ‘গত ২৭ মার্চ হরতালের আগের দিন আমাদের দলের মিছিল থেকে কেউ মাদ্রাসা কিংবা এর আশপাশেও যায়নি। অথচ হেফাজত নেতারা অপপ্রচার করছে আমাদের মিছিল করার কারণেই নাকি তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়েছে। তাহলে প্রশ্ন রাখতে চাই, হেফাজতের মাধ্যমে যে ২৬ মার্চ শহরে তাণ্ডব চালানো হলো সেটা কার উসকানিতে? আওয়ামী লীগের মিছিল হওয়ার আগেই

সরাইলের অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা হলো কী কারণে?’
সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শোভন হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন ও অবিলম্বে মিথ্যাচারের জন্য হেফাজত নেতাদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল, ছাত্রলীগ নেতা জুবায়ের মাহমুদ খান শ্রাবণ, তামাচ্ছুম অনিক, আবদুল আজিজ অনিক, সাকিল ইসলাম তানিম, শেখ মঞ্জুরে মওলা, রুহুল

আমিন আফ্রিদী, সাফাওয়ান আহমেদ প্রমুখ। প্রসঙ্গত, গত ২৬ ও ২৮ মার্চ হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবে ধ্বংসের নগরীতে পরিণত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস, হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সংগীতাঙ্গন ও জেলা প্রেস ক্লাবসহ অসংখ্য স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। রবিবার সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রতিষ্ঠানসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় জেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা ভবন,

পৌর মিলনায়তন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস, পুলিশ লাইন, সদর থানা, খাঁটি হাতা বিশ্বরোড হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি, শহরের কেন্দ্রীয় মন্দির শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালী বাড়ি, দক্ষিণ কালী বাড়ি, রেলওয়ে স্টেশন, জেলা আওয়ামী লীগ ও সংসদ সদস্যের কার্যালয়, সরকারি গণগ্রন্থাগার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকারের কার্যালয়, তাঁর নিজের ও শশুরবাড়ি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পাঠাগার চত্বর ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবন।

About Gazi Mamun

Check Also

অবশেষে খালেদা জিয়ার সঠিক জন্মদিন প্রকাশ পেলো: কাদের

অবশেষে বেগম খালেদা জিয়ার করোনা টেস্ট রিপোর্টে তার আসল জন্মদিনের সঠিক তথ্য প্রকাশিত হলো বলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *