আমাদের উদ্দেশ্য কুরআনের বিধান অনুযায়ী সুন্দর সমাজ গঠন : ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো নিয়ামতপূর্ণ সংগঠনে শামিল হওয়ার কারণে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

তার ঐতিহাসিক দীর্ঘ পথচলায় বিভিন্ন বা’ধা অতিক্রম করে আজ এখানে এসেছে। আমাদের সংগঠনের চলার পথটি মোটেই সহজ ছিল না। শুরু থেকেই বিভিন্ন কায়েমী স্বার্থলোভীদের কালো মেঘ ও অমানিশা আমাদের যাত্রাকে বারবার আ’টকে দেয়ার চেষ্টা

করেছিল। আমাদের সামনে হাজারো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে তারা। আলহাম’দুলিল্লাহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের মানুষের ভালোবাসায় আজ সিক্ত। বিভিন্ন ষ’ড়যন্ত্র, অ’পপ্রচার করেও যখন পারা গেল না, তখন গায়ের শ’ক্তিতে অন্যায়ভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষ’মতাকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য

নেতা-কর্মীকে হ’ত্যা করা হয়েছে। আমাদের সহকর্মীরা আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানিতে সকল সামাজিক অ’পরাধসহ ক্ষুদ্র যেকোনো শা’স্তিযোগ্য অ’পরাধ থেকেও মুক্ত। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই মহান আল্লাহ তায়ালার কুরআনের বিধান অনুযায়ী একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা। এ জন্য জামায়াতে ইসলামী তার প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে।শুক্রবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা

মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত রুকন (সদস্য) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা: শফিকুর রহমান।সম্মেলনটি ভার্চুয়াল মাধ্যম জুম ও ইউটিউব লাইভের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি

ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক জাতীয় সং’সদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, মুহা: দেলাওয়ার

হোসাইন ও আবদুল জব্বারসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে ৯০ ভাগ মানুষ মু’সলমান অথচ এই সমাজকে তার আকিদা বিশ্বাসের জায়গা থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য সীমাহীন ষ’ড়যন্ত্র চলছে। একজন মু’সলমানের পারিবারিক জীবন, সমাজের সাথে তার ব্যবহার, মানুষের কল্যাণের জন্য সে কি ভূমিকা রাখবে বা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহপাক মু’সলিম হিসেবে তাকে যে দায়িত্ব

দিয়েছেন সবকিছু ভু’লিয়ে রাখার জন্য গভীর ষ’ড়যন্ত্র বিদ্যমান। আমরা শপথের কর্মী, আল্লাহর গোলামী করার জন্য আমরা নিবেদিত। এ জন্য কুরআনের বিধানের আলোকে নিজেকে তৈরি করে দেশ, সমাজ ও জাতি গঠনে আমরা প্রচেষ্ঠা চা’লিয়ে যাবো। যারা সব সময় আমাদের বি’রোধিতা করছেন, আমরা তাদেরকে আমাদের বন্ধু, ভাই-বোনের মতো মনে করি। তাদের হেদায়াতের জন্য আমরা মহান রবের কাছে দোয়া অব্যাহত রাখবো।

আমাদের মাঝে মাহে রমজান সমাগত। আসুন আমরা এই মাসের পবিত্রতা রক্ষা করি। নিজেদের পরিশুদ্ধ করার জন্য ইবাদাত বন্দেগীতে মনোযোগী হই ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার প্রচেষ্ঠা চালাই। রুকনদের উদ্দেশে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পবিত্র কুরআনের দু’টি স্থানে রুকন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কুরআনের সুরা হুদের ৮০ নম্বর আয়াতে ও সুরা আয যারিয়াতের ৩৯ নম্বর আয়াতে রুকন শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। যার সরাসরি

অর্থ বোঝায় শ’ক্তি ও নেতৃত্ব। মৌলিক বি’ষয় হচ্ছে রুকন তথা পিলার যার উপরে স্থাপনাটি মজবুতভাবে টিকে থাকে। সুতরাং প্রত্যেক রুকনকে (সদস্য) সংগঠনের পিলারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। মাওলানা এ টি এম মাসুম বলেন, জামায়াতের একজন রুকন (সদস্য) হিসেবে রাসূল সা:-এর দেখানো ও সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পন্থায় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইবাদাতে আত্মনিয়োগ করতে হবে। এভাবেই আমরা আল্লাহর করুণা পেতে পারি। আল্লাহ আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেলেই কেবলমাত্র আমাদের প্রকৃত সফলতা নিশ্চিত হবে ইনশাআল্লাহ।

মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ক’রোনার মতো ছোট্ট একটি ভাই’রাসের কাছে আজ দুনিয়ার বড় বড় রাষ্ট্রসহ সকলেই হেরে যাচ্ছে। এটা থেকেও স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে সমগ্র বিশ্বের মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা। আসমান জমিনের সমগ্র কর্তৃত্ব ও রাজত্ব একমাত্র তারই। সেই মহান রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি পাওয়ার জন্যই আমাদের সকল কাজের আঞ্জাম দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জামায়াতের রুকন (সদস্য) হিসেবে আমার কী দায়িত্ব? দায়িত্বের দাবি যথাযথভাবে আমি পালন করতে পারছি কি না এ উপলব্ধি প্রত্যেক রুকনকে (সদস্য) করতে হবে। আমাদের উপলব্ধি ও জবাবদিহির চেতনা যদি লালন করতে না পারি তাহলে আমি শপথের একজন কর্মী

হিসেবে সে দারি পূরণে ব্যর্থ। সংগঠনের শপথের জনশ’ক্তি হিসেবে আমাদেরকে সংগঠন নির্ধারিত সময় পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে হবে। বর্তমান সময়ের দাবি হিসেবে একজন রুকনকে অবশ্যই ত’থ্য প্রযুক্তির জ্ঞানে সমৃদ্ধ হতে হবে এবং নিজের যোগ্যতাকে আরো সমৃদ্ধ করতে হবে। পেশাগত ও ব্যক্তিগত দক্ষ’তা বৃ’দ্ধির জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে যে কর্মসূচি আসবে সেগুলোতে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে। নিজেকে মানবসম্পদে পরিণত করার মধ্য দিয়ে দুনিয়ার পরিবর্তন করার যোগ্যতা অর্জন ও পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার লক্ষ্যে যাবতীয় কর্মতৎপরতা বজায় রাখা যায়। তিনি ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে ঈমানদারদেরকে সকল বিভ্রান্তির মোকাবেলায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা অবলম্বন করে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

About Gazi Mamun

Check Also

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুরের ৩০ গ্রামের মানুষের ঈদ উদযাপন

মাদারীপুর- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুর জেলার কিছু এলাকায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *