আমিন আমিন ধ্বনিতে করোনা মুক্তির আহাজারি

করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে আরোপকৃত লকডাউনের মধ্যেই রমজানের প্রথম জুমায় মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের ঢল নেমেছিলো। সরকারি বিধি নিষেধ মুসুল্লিদের মসজিদে উপস্থিত থাকা থেকে বিরত রাখতে পারেনি।

সেই সাথে নামাজ শেষে মুসুল্লিদের মুখে আমিন আমিন ধ্বনিতে ছিল করোনা মুক্তির আহাজারি সূত্র বলছে, সাধারণত ইসলাম ধর্মালম্বীদের জন্য রমজান মাসকে ইবাদতের মৌসুম বলা হয়ে থাকে। এই মাসকে ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা বেশি মসজিদমুখী হয়ে

থাকেন। তারা তারাবীর নামাজ সহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই মসজিদে গিয়ে আদায় করার চেষ্টা করে থাকেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের কারণে গত বছরেও এবার মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায়ে মুসুল্লিদের জন্য বিধি নিষেধ আরো করা হয়েছে। যা ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের জন্য আক্ষেপের বিষয়। ফলশ্রুতিতে সেই বিধি

নিষেধ উপেক্ষা করে রমজানের প্রথম জুমআ মসজিদে গিয়ে আদায় করেছেন। মসজিদগুলোতেও ছিল মুসুল্লিদের ঢল। সেই সাথে নামাজ আদায় শেষে সকলের মুখেই ছিল প্রাণঘাতি করোনা মুক্তির আহাজারি। ইমামের সাথে সকলেই আমিন আমিন ধ্বনিতে আল্লাহর কাছে চোখের জলে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস থেকে

মুক্তির প্রার্থনা করেছেন। নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রায় প্রত্যেকটি মসজিদে এই চিত্র দেখা গেছে। নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রধান মসজিদ ডিআইটি রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এদিন ১২ টার পর থেকেই জুমআর নামাজ আদায়ের জন্য মুসুল্লিরা মসজিদে হাজির হয়ে যান। এভাবে ধীরে

ধর্মীয়প্রাণ মুসল্লিদের আগমনে মসজিদ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠে। রাস্তায়ও নামাজের কাতার হয়। যথারীতি মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়ালের বয়ান ও খুতবা শেষে তার ইমামতিতে জুমআর নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে সকলেই আল্লাহর কাছে প্রার্থনায় মগ্ন হন। এসময় সারা মসজিদ জুড়েই শুরু হয়

রোনাজারি। তাদের রোনাজারি চারপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। সকলেই কন্ঠেই ছিল পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম সাধনের উছিলায় যেন এই প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তি দেয়া হয়। সকলেই শিশুদের মতো ডুকরে কেঁদে তাদের রবের কাছে অপরাধের মার্জনা চেয়ে করোনা ভাইরাসের কবল থেকে বাঁচার জন্য প্রার্থনা করেছেন। মোনাজাত শেষেও যেন অনেকের কান্না

থামছিল না। এর আগে করোনা পরিস্থিতিতে পবিত্র রমজানে তারাবির নামাজে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন বলে জানায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত সোমবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে বলা হয়, মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি

ওয়াক্তে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশ নেবেন। তারাবির নামাজে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন এবং জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিরা অংশ নেবেন। বিজ্ঞপ্তিতে সম্মানিত মুসল্লিদের পবিত্র রমজানে তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত এবং বিপদ মুক্তির জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়।

About Gazi Mamun

Check Also

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুরের ৩০ গ্রামের মানুষের ঈদ উদযাপন

মাদারীপুর- সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুর জেলার কিছু এলাকায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *