এক দিন মজুর রোযাদারের গল্প

এক দিন মজুর রোযাদারের গল্প কথা গুলো যখন লিখছিলাম তখন চোখের কোনে অজান্তেই দুফোটা জল কনা বেড়িয়ে এলো । বুকটা হু হু করে উঠলো । নাম মোঃ আবু তালেব। বাড়ি পাবনা সদর থানার ধোপাঘাটা গ্রাম যাহা

গয়েশপুর ইউনিয়ন পরিষদের অন্তভুক্ত। ছোট বেলা থেকেই আবু তালেব খুবই সাদা সিধে । কারো সাথে কোনদিন ঝগড়া বিবাদে আবু তালেবকে লিপ্ত হতে দেখেনি ।

বউ সন্তান মিলে পাচ সদস্য বিশিষ্ট আবু তালেবের সংসার। দিনমজুর আবু তালেব একদিন বসে থাকলে না খেয়ে থাকতে হয় তাকে এবং ছেলে মেয়েদের। প্রচন্ড রোদের তাপ । বিশ জন

কামলা এক সাথে ধান কাটার কাজ করছে । ধান কাটা সমপন্ন হবার পর ধানের বোঝা মাথায় করে আনার পালা । প্রায় এক কিলো মিটার পথ ধানের বোঝা বহন করে অানতে হচ্ছে । সকলেই বোঝা নামানোর পর কলসিতে পানি রাখা আছে

পান করছে । শুধু আবু তালেবকে পানি পান করতে দেখলাম না বললাম তালেব চাচা তুমি পানি খাবেনা ? জবাবে বলল না বাবা আমি রোজা আছি। আমি বললাম চাচা কিভাবে এতো পরিশ্রমের পর রোজা আছেন? তালেব বলল মালিকের কৃপায় বাপু ।

যখন কথা বলছিলাম তখন তার সমস্থ শরীর ঘামে ভেজা
মনে হলো সদ্য গোসল করা কোন মানুষ। প্রভুর প্রতি তার অগাধ বিশ্বাসই তাকে রোজা রাখার অনুপ্রেরনা যুগিয়েছে —- আর আল্লাহ তাকে সহায়তা করেছে রোজা রাখতে ।

তা না হলে কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় এভাবে সিয়াম সাধনা করা । এসব আবু তালেবরাই হয়তোবা
নিজ হাতে আল্লাহর কাছ থেকে রোজার রাখার
উপযুক্ত পুরুস্কার পাবেন। হাজার হাজার বিত্তশালীদের চেয়ে কোটি বছর আগে জান্নাতে

প্রবেশ করবে । আল্লাহ তুমি আবু তালেব সহ যে
সকল দিনমজুর পেটে পাথর চেপে রোজা রাখে
তাদের তুমি মাফ করে দিয়ে তোমার সু বিশাল
জান্নাতের মেহমান করে নিও।

কপি পোস্ট

About Gazi Mamun

Check Also

বাবা নেই, প্রতিবন্ধী এতিম ছেলেটির জন্য একটি হুইল চেয়ারের আকুতি মায়ের

অনিল চন্দ্র রায়, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি- চয়ন আলী বয়স ১৪ বছর। জন্মের পর থেকেই দু’হাত, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *