ক্রিকেটার বিথী প্রতিদিন ২০০ অসহায়কে ইফতার দিচ্ছেন

ক্রিকেটার আরিফা জাহান বিথী করোনার এই ক্রান্তিকাল ও পবিত্র মাহে রমজানে অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন । সাবেক এই নারী ক্রিকেটার মাহে রমজানে প্রতিদিন দুই শতাধিক রোজাদার অসহায় ব্যক্তিকে ইফতার করানার উদ্যোগ

নিয়েছেন চলমান কঠোর লকডাউন পরিস্থিতিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইফতার পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। রংপুর নগরীর ঘনবসতিপূর্ণ নূরপুর এলাকায় অসহায় দুস্থ ও কর্মহীন দুই শতাধিক রোজাদার ব্যক্তির মাঝে বুধবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে ইফতারের প্যাকেট বিতরণের

মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন এলাকার শ্রমিক ও দিনমজুরদের মাঝে ইফতার বিতরণ করবেন তিনি। পুরো রমজান মাসে ছয় হাজার রোজাদার ব্যক্তিকে ইফতার করানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বিথী। অনেকেই তার উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন । সামাজিক

যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিথী তার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন এবং সেখানে অনেকের কাছ থেকে সাড়া পান। বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রথম ধাক্কা এখনো সামলে উঠতে পারেনি নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ। এরই মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ব্যাপক হারে সংক্রমণ ও নিহত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতি ও চলমান লকডাউনে আবারও অসহায়, দুস্থ, কর্মহীন, শ্রমিক ও

দিনমজুরসহ মধ্যবিত্ত মানুষরা সমস্যায় পড়েছেন। যাদের একদিন কাজ না করলে চুলায় হাড়ি উঠে না, তারা পড়েছেন সবচেয়ে বিপাকে। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্রত নিয়ে নামেন বিথী।
এ কার্যক্রম প্রসঙ্গে আরিফা জাহান বিথী বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই দুস্থ, অসহায় মানুষদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সেই লক্ষ্য নিয়েই মাহে রমজানে ইফতার বিতরণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ২০০

রোজাদারকে ইফতার প্যাকেট বিতরণ করা হবে। এভাবে পুরো রমজানে ছয় হাজার রোজাদারকে ইফতার দেওয়া হবে। গত বছরও করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষদের মধ্যে ইফতার বিতরণ করা হয়েছে। সাবেক এই ক্রিকেটার জানান, ইফতারের একেকটা প্যাকেটের খরচ পড়েছে ৫০ টাকা। খিচুড়ি, ডিম, ভাত, সবজি, ডাল, মুরগি, গরু, বিরিয়ানি, বুট বিরিয়ানি, খেজুর ও শরবত ইত্যাদিসহ একেক দিন একেক আইটেম থাকবে প্যাকেটে।

প্রতিদিন ২০০ জন রোজাদারের জন্য খরচ পড়বে ১০ হাজার টাকা। পুরো একমাসে অর্থাৎ রমজানের ৩০ দিনে সর্বমোট খরচ পরবে তিন লাখ টাকা। চাইলে এই কার্যক্রমে সামর্থ্য অনুযায়ী যে কেউ সহযোগিতা করতে পারবেন। একটি প্যাকেটের জন্য ৫০ টাকা করে, অথবা একদিনে ২০০ জনের দায়িত্ব নিতে ১০ হাজার টাকা দিয়ে যে কেউ এগিয়ে আসতে পারবেন। কেউ যদি রান্না করে

খাবার দিতে চান। বিথী নিজে গিয়েও ইফাতারের সেই খাবার সংগ্রহ করে বিতরণ করবেন। এক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া কেউ যদি পরিচয় গোপন রাখতে চান, তাও করা হবে। এই উদ্যোগে কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে কথা বলতে পারেন (০১৩১৯৯৯৮৫৯৭) বিথীর সঙ্গে। এছাড়া বিকাশ নম্বর (০১৩১৯৯৯৮৫৯৭) (পারসোনাল), রকেট- (০১৮৬৭৫৭৮২৩০৬), নগদ- (০১৮৬৭৫৭৮২৩০) বিথী তার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। সেখানে তিনি বেশ

কয়েকজনের সাড়াও পেয়েছেন। তারপর ভুক্তভোগীদের খোঁজ নিয়ে হাতে হাতে ইফতারের প্যাকেট পৌঁছে দেওয়া শুরু করেন বিথী।
গত বছর করোনা মহামারির শুরুর দিকে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সেবার জন্য ফেসবুকে সবার কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছেন বিথী। ক্রিকেটার তামিম ইকবাল, রুবেল হোসেনসহ অনেকের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলেন। এক বছরে সাড়ে চার হাজারের মতো অসহায়, দুস্থ, কর্মহীন মানুষের পাশাপাশি সন্তানসম্ভবা নারীকে

সেবা দিয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার। নিজের জমানো টাকা আর অন্যের আর্থিক সহযোগিতার সমন্বয়ে কয়েক হাজার মানুষের দুয়ারে চাল, ডাল, তেল, লবণ, ফল, দুধ, ডিম ও হরলিকসসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়া ১৯ জন অসহায় নারীকে করোনার সময়ে সেলাই মেশিন দিয়ে স্বাবলম্বী করেছেন বিথী। ঘরহীন ছয়জন বৃদ্ধা মাকে দিয়েছেন নতুন ঘর। সহায়-সম্বলহীন ২১ জন শিক্ষার্থীকে কলেজে ভর্তির জন্য আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছেন। এর আগে ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামে নারীদের জন্য উইমেন্স

ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি নামে প্রশিক্ষণ একাডেমি গড়েন বিথী। সেখানে ২৫০ জন নারী বিনামূল্যে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
আরিফা জাহান বিথী ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে খেলেছেন। ঢাকার ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাব, কলাবাগান, রায়েরবাজার ক্রিকেট দলে ওপেনিং ব্যাট করতে নামতেন। ২০১৭ সালে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ার বিসর্জন দিতে হয়েছে তাকে।

About Gazi Mamun

Check Also

পাকিস্তানে যে পরিমাণ প্রতিভা রয়েছে, তা ভারতের কাছে নেই -ঃ রাজ্জাক

ভারত-পাকিস্তানের লড়াই চলে আসছে যুগ-যুগ ধরে। রাজনীতি থেকে শুরু করে ক্রিকেট মাঠ এই দুই দলের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *