আলেম-ওলামাদের নিঃশর্ত মুক্তি চাইলেন মির্জা ফখরুল

ঢাকা- লকডাউনের সুযোগে দেশে ধর্মীয় নেতা-আলেম-উলামাদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তাদের মুক্তি চেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ

সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থার সাংবাদিকরা অংশ নেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘গত কয়েক দিন ধরে এই লকডাউনের সুযোগ নিয়ে আমি আগেও বলেছি যে

একটা ক্র্যাকডাউন করা হয়েছে। সেই ক্র্যাকডাউনের মধ্য দিয়ে একদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের ধর্মীয় নেতা যারা আছেন, যারা আলেম-উলামা আছেন, তাদেরকে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে যারা অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় মানুষ, শ্রদ্ধেয় আলেম

আছেন, এ দেশে মানুষের কাছে যারা অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র, তাদেরকেও গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলাও দেওয়া হচ্ছে।” তিনি বলেন, ‘‘আমি আহ্বান জানাব যে অবিলম্বে এসব মামলা-মোকাদ্দমা তুলে ফেলা হোক, যারা ধর্মীয় নেতা আছেন, আলেম-উলামা আছেন,

তাদেরকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদান করা হোক এবং বিএনপির যেসব নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক এবং তাদের সব মামলা তুলে নেওয়া হোক।” মির্জা ফখরুল বলেন, “ধর্মীয় নেতাদেরকে গ্রেপ্তার করে আজকে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের বুকে আঘাত করা

হচ্ছে এবং তাদের আবেগ, সেন্টিমেন্ট সেখানে আঘাত করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, ‘‘আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, ধর্মীয় নেতাদেরকে এভাবে অপমান করা, তাদেরকে এভাবে হয়রানি করা এ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ কিন্তু কোনোভাবেই মেনে নেবে না।” হেফাজতের সঙ্গে আমাদের কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই

জানিয়ে তিনি বলেন, “এটা কোনো রাজনৈতিক দলও নয়। সম্পূর্ণভাবে একটি ধর্মীয় সংগঠন।” সংঘাতের জন্য সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, “২৬ মার্চকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো সংগঠিত হয়েছে এটা তো সরকারের তৈরি করা। ২৬ মার্চ কয়েকটি ধর্মীয় সংগঠন, একই সঙ্গে অনেক রাজনৈতিক সংগঠন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরকে উপলক্ষ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি

দিয়েছিল। “আমরা দেখেছি যে, বায়তুল মোকাররমে যে বিক্ষোভ কর্মসূচি হচ্ছিল, তা শান্তিপূর্ণ ছিল। এটাকে সহিংস করে দেওয়ার পেছনে পুলিশের সবচেয়ে বড় ভূমিকা এবং তার পরে আওয়ামী লীগের দলীয় সন্ত্রাসীরা “ স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা করা হয়। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্নীতির কারণে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপিকে জড়িত করা হচ্ছে। ওইসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনও সম্পর্ক ছিল না। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে কলুষিত করা হয়েছে মানুষের রক্ত দিয়ে।

About Gazi Mamun

Check Also

গ্রামে বাড়ি নির্মাণ করতে হলে অনুমতি লাগবে ইউনিয়ন পরিষদের

গ্রামাঞ্চলে বাসাবাড়িসহ দোকান, মসজিদ মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লাব কিংবা বিভিন্ন অফিসসহ যেকোনো অবকাঠামোগত স্থাপনা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *