পরিচয় দেওয়ার পরও আমার মেয়ের সঙ্গে কেন এমন আচরণ করা হলো: শওকত আলী সরকার বীর বিক্রম

লকডাউনের মধ্যে মুভমেন্ট পাস নিয়ে চিকিৎসক-পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডার ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলেছেন ওই চিকিৎসকের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী সরকার (বীর বিক্রম)। সোমবার (১৯ এপ্রিল) বাংলা

ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘এটা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমার মেয়ে তার পরিচয় দেওয়ার পরও কেন তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হলো বুঝতে পারলাম না।’ সব পেশার লোকজন মিলেমিশে সরকারি দায়িত্ব পালন করবেন

বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। গতকাল রবিবার (১৮ এপ্রিল) লকডাউনের পঞ্চম দিনে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, দুপুরে এলিফ্যান্ট রোডের বাটা সিগন্যালে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের তল্লাশিতে পড়েন। সেখানে ঢাকা জেলা প্রশাসন অফিসের সহকারী কমিশনার শেখ মো. মামুনুর রশিদ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিলেন। নিউ মার্কেট থানার

একজন পরিদর্শকের নেতৃত্বে একাধিক পুলিশ সদস্য সেখানে দায়িত্বরত ছিলেন। ডা. সাঈদা শওকত জেনির বাবার বাড়ি কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায়। চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী সরকারের জ্যেষ্ঠ সন্তান ডা. জেনি। শওকত আলী সরকার বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেন। তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি চিলমারী উপজেলা

আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও পর পর পাঁচবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান তিনি।
ডা. জেনির সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তার বাগবিতণ্ডার যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সে বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে শওকত আলী সরকার বলেন, ‘এটা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমার মেয়ে পরিচয় দেওয়ার পরও কেন তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হলো তা বুঝতে পারলাম না। আমরা পোশাক দেখেই কয়েকটি পেশার মানুষকে চিহ্নিত করি।

সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ইত্যাদি পেশার লোকদের পোশাকই বলে দেয় তাদের দায়িত্ব কী। তেমনি অ্যাপ্রন পরলে আমরা বুঝতে পারি ওই ব্যক্তি চিকিৎসা সেবার সঙ্গে নিয়োজিত। আমার মেয়ের পরনে অ্যাপ্রন ছিল, তাতে তার পরিচয়ও লেখা ছিল। গাড়িতে স্টিকার এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়নও সাঁটানো ছিল। এরপরও তার সঙ্গে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত।’ সব পেশার লোকজন মিলেমিশে সরকারি দায়িত্ব পালন করবেন বলেও এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শওকত আলী সরকারের ছয় সন্তানের (চার মেয়ে ও দুই ছেলে)

মধ্যে অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনি জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার দ্বিতীয় মেয়ে বুয়েটের শিক্ষক। তিনি বর্তমানে পিএইচডি করতে আমেরিকায় অবস্থান করছেন। তৃতীয় মেয়ে পেশায় একজন ডেন্টিস্ট। চতুর্থ মেয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। তিনিও উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে আমেরিকায় অবস্থান করছেন। আর দুই ছেলে বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। প্রসঙ্গত, ১৮ এপ্রিল লকডাউনের পঞ্চম দিনে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে মুভমেন্ট পাস নিয়ে বাগবিতণ্ডায় জড়ান চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তা। চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যরা অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত জেনির কাছে তার আইডি কার্ড দেখতে চান। সঙ্গে আইডি কার্ড

আনেননি বলে জানান ওই চিকিৎসক। এরপর তার কাছে মুভমেন্ট পাস দেখতে চাওয়া হয়। জেনি জানতে চান, ডাক্তারের মুভমেন্ট পাস লাগে? এরপর জেনি তার গাড়িতে বিএসএমএমইউর স্টিকার ও হাসপাতাল থেকে পাওয়া তার লিখিত পাস দেখান। এরপরও পুলিশ তার কাছে আইডি কার্ড দেখতে চান। পরে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

About Gazi Mamun

Check Also

ঈদের ছুটি ৩ দিন, চাকরিজীবীদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা

Islamic world করোনা সংক্রমণ রোধে কয়েকটি শর্ত শিথিল করে ৬ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত লকডাউন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *