এবার মামুনুল হককে রিমান্ডে নিতে চায় সিআইডিও

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নারায়ণগঞ্জের আরেকটি মামলায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তার দেখাবে। ওই মামলায় তাকে রিমান্ডের আবেদনও করবে সিআইডি নারায়ণগঞ্জের

সিদ্ধিরগঞ্জে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাকে ঐ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করতে চায় সংস্থাটি সিআইডির

অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে তিনি এসব তথ্য জানান। এর আগে সোমবার (১৯ এপ্রিল) মামুনুল হকের বিরুদ্ধে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রোববার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর

মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা ২৩টি মামলার তদন্ত ভার পেয়েছে সিআইডি। মামলাগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ২টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৫টি, কিশোরগঞ্জে ২টি, চট্টগ্রামে ২টি ও মুন্সিগঞ্জে ২টি। হত্যা,

বিস্ফোরক, নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, হেফাজতে ইসলাম মার্চ মাসের শেষ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে জ্বালাও-পোড়াও করেছে, আগুন নিয়েছে, অবরোধ করেছে, হরতালের ডাক দিয়েছে। যা প্রচলিত আইন

অনুযায়ী অন্যায়। এরইমধ্যে আমরা ২৩টি মামলার তদন্তভার পেয়েছি। আমরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা তদন্ত করব। আমাদের ফরেনসিক, ডিএনএ, অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তা রয়েছে, সাইবার এক্সপার্ট রয়েছে। এসব মামলায় মামুনুল হকের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না, গেলে তাকে রিমান্ডে আনা হবে

কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে তার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। তিনি একটি মামলায় রিমান্ডে আছেন। সেটি শেষ হলে আমরা তাকে রিমান্ডে আনব। কোন মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে সিআইডি তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে নারায়ণগঞ্জে দায়ের করা মামলায় তার ইনভলমেন্ট

পাওয়া গেছে। আমরা সব মামলা স্টাডি করছি। যদি অন্য কোনো মামলাতেও তার ইনসাইড ইনভলমেন্ট পাই তাহলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় সরকারি দলের কারও সম্পৃক্ততা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা­–জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারও পরিচয় দেখে আমরা কাজ করি না। আইন অনুযায়ী

ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ হেফাজতের নাশকতার সময় আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হেফাজত ইসলামের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে অনেক মামলা রয়েছে। আমরা সেগুলো তদন্ত করে দেখবো। সেই তদন্তে যদি কারও কাছে অস্ত্র পাওয়া যায় সেগুলো আমরা উদ্ধার করবো।’

About Gazi Mamun

Check Also

কুমিল্লাকান্ডে জকিগঞ্জে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষ, ইউএনও-এএসপির গাড়ি ভাঙচুর

সিলেটের জকিগঞ্জে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভাংচুর করা হয়েছে ইউএনও, অতিরিক্ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *