১ বছরের কন্যাকে ব্যাগে ভরে ডেলিভারি বয়ের কাজ সামলাচ্ছেন বাবা, ভিডিও দেখে কান্না নেটিজেনদের

আমাদের কাছে ঈশ্বর থাকতে পারেন না বলে তার বিকল্প হিসেবে আমাদের কাছে পাঠিয়ে দেন বাবা-মাকে। একজন মা তারা নয় মাস আমাদের গর্ভ তে বহন করে, তাই তার সঙ্গে থেকে যায় আমাদের নাড়ির টান। কিন্তু বাবার সঙ্গে

নাড়ির টান না থাকলেও বাবা আমাদের জীবনে যে কত বড় অঙ্গ তা বাবা না থাকলেই বোঝা যায়। বাবার সঙ্গে নাড়ির টান না থাকলেও থেকে যায় মনের টান। প্রত্যেকদিন কঠোর পরিশ্রম করে একজন বাবা তার ছেলে অথবা মেয়েকে মানুষ

করার চেষ্টা করেন। প্রত্যেক বাবা-মায়েদের সাধ্যমত চেষ্টা করেন ছেলেমেয়েকে প্রতিষ্ঠিত করার। সম্প্রতি পিতৃত্বের বড় একটি উদাহরণ দেখা গেল সোশ্যাল মিডিয়াতে। এই ভিডিও দেখলে আপনিও চোখের জল ধরে রাখতে পারবেন না। দুই
বছরের

একটি বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে অভাবের সংসারে সামান্য খাদ্য যোগাড় করার জন্য পথে নেমে পড়েছেন এক পিতা। দুধের শিশুকে বাড়িতে রেখে যাওয়া অসম্ভব, তাই তাকে নিয়েই সঙ্গে যেতে হয় ডেলিভারি বয়ের কাজ করতে। ব্যক্তির নাম লি, তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে এবং সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকেন। সংসারে অর্থনৈতিক অভাব

থাকলেও সুখের কোন অভাব নেই। সমস্ত অর্থনৈতিক সমস্যার মোকাবিলা যে তারা একসাথে করতে পারবেন, সেটা তাদের কঠোর পরিশ্রম দেখলেই বোঝা যায়। প্রতিনিয়ত কষ্টকে বুকে করে নিয়ে মেয়েকে মনের মত মানুষ করে তোলার জন্য তারা দুজনেই পরিশ্রম করে চলেছেন। এই প্রসঙ্গে লি জানিয়েছেন, দিনের বেলা মেয়েকে দেখাশোনা করেন তিনি। সন্ধ্যে হলেই তার মেয়ের দেখাশোনা করেন তার স্ত্রী।

পাশাপাশি তিনি আরো জানান যে, মেয়ের 6 মাস বয়স থেকেই তিনি এই ভাবে ডেলিভারির কাজ করছেন। দুধের শিশুকে প্রথমেই এই ভাবে নিয়ে যাবা খুবই অসম্ভব বলে মনে হতো তার। কিন্তু এখন তার এবং তার মেয়ে দুজনেরই সাহস বেড়ে গেছে। এখন মেয়েকে নিয়ে কাজ করতে কোন অসুবিধা হয় না তার। মেয়ের সঙ্গে তিনি নিয়ে যান প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন দুধ খাওয়ানোর বোতল এবং ডায়পার। শিশুটিকে এইভাবে নিয়ে যেতে খুবই খারাপ লাগে কিন্তু একেবারেই নিরুপায় তিনি। তবে সারাদিনের বাবার

পরিশ্রম নিরর্থক হয়না যখন তিনি দেখতে পান যে তার মেয়ে বাবার সঙ্গ পেয়ে খুব খুশি হয়। সারাদিনে দুষ্টুমি করে সে নিজের মত কিন্তু একেবারেই বিরক্ত করে না বাবাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথেই সকলেই এই ডেলিভারি বয় কে আরো একবার প্রণাম জানিয়েছেন। সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে, চেষ্টা এবং ইচ্ছা থাকলে সবকিছুই সম্ভব এই পৃথিবীতে।

About Gazi Mamun

Check Also

ভাবছিলাম টাকা কয়ডা দিয়া ঈদ করমু কিন্তু এটা কি হয়ে গেলো।

ভাবছিলাম টাকা কয়ডা পাইলে ঈদ করতে পারমু। কিন্তু আমগো সেই আশা আর পূরণ হইলো না। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *