কওমি মাদ্রাসার অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধানে গোয়েন্দারা

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার অনিয়ম-দুর্নীতির অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। ইতোমধ্যেই রাজধানীর মোহাম্মদপুর, লালবাগ, যাত্রাবাড়ী ও

বারিধারায় বিভিন্ন মাদ্রাসার অনিয়ম-দুর্নীতির বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব মাদ্রাসার অধিকাংশের আয়-ব্যয়ের হিসাব নেই। দেশের বাইরে থেকে আসা অনুদান কীভাবে খরচ করা হয় তার কোনো নথিও সংরক্ষণ করা হয় না অনেক মাদ্রাসায়।

এসব অর্থ শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যয় হয় নাকি অন্য কোনো খাতে খরচ করা হয়- এসব বিষয় আমলে নিয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এছাড়া হেফাজতের নিয়ন্ত্রণে থাকা কোনো কোনো মাদ্রাসার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির লাইন অবৈধ- এমন অভিযোগের বিষয়েও অনুসন্ধান

করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসাবে কওমি মাদ্রাসা স্পর্শকাতর হওয়ার কারণে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। তবে সম্প্রতি দেশব্যাপী সহিংস কর্মকাণ্ডের কারণে হেফাজতকে কোনো ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা

বলেন, হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ করেন। এ মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে খেলাফত মজলিসের তৎকালীন আমির আল্লামা আজিজুল হক প্রভাব খাটিয়ে দখল করেন। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। আদালত একটি স্বতন্ত্র বোর্ড গঠন করার বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

বোর্ড গঠন করতে একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগও দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনার পর আজিজুল হক মাদ্রাসার দায়িত্ব দেন তার ছেলে মামুনুল হককে। তিনি প্রভাব খাটিয়ে সেই বোর্ড আর গঠন করতে দেননি। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, দেশের বাইরে

থেকে কওমি মাদ্রাসাগুলোর জন্য অনেক অনুদান আসে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসব মাদ্রাসায় অনুদান আসে। এসব অনুদান কীভাবে খরচ করে, কোন খাতে খরচ করে- এ নিয়ে গোয়েন্দারা অনুসন্ধান করছেন। এসব অর্থ হেফাজতের সাংগঠনিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা- এ প্রশ্নটিও সামনে এসেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, যেসব হেফাজত নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ২০টি করে সহিংসতার মামলা রয়েছে। তাদের অন্যান্য মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে রিমান্ড চাওয়া হবে। এ কারণে তারা আবদার করছেন, কম সংখ্যক মামলায় যেন তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার (ক্রাইম) শাহ আবিদ

হোসেন বলেন, কাউকে শ্যোন এরেস্ট দেখানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধান্ত নেন। তদন্ত কর্মকর্তা যদি মনে করেন, তবে সংশ্লিষ্ট মামলায় হেফাজত নেতাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখাবেন।

About Gazi Mamun

Check Also

আমাদের জন্যই লকডাউন, আমি সবাইকে নিয়ে জেলে যাব, তাও লকডাউন তুলে নিন : বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, দেশের নিম্নআয়ের গরিব মানুষকে আর হ”য়রানি ও কষ্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *