আর লুঙ্গি না, এবার প্যান্ট পরেই কাজ করতে পারবে কৃষকরা : কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, ‘আমরা কৃষকের উন্নয়নে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছি।
কৃষিকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে ৫৩ হাজার ধান কাটার মেশিন সরবরাহ করবো। আগামী দিনে কৃষকদের আর

লুঙ্গি পরে কাজ করতে হবে না। প্যান্ট পরেই কাজ করতে পারবে।’ আজ রোববার (২৫ এপ্রিল) সকালে কিশোরগঞ্জের মিঠামইন সদরের হাওরে বোরো ধান কর্তন উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি এসব কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর প্রচুর পরিমাণে কৃষকদের

মাঝে ধান কাটার মেশিন সরবরাহ করবো। যে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে এর মধ্যে ধান শুকানোর জন্য ড্রায়ার মেশিন রয়েছে। এটাও আপনারা পাবেন। মন্ত্রী আরো বলেন, হাওরে পানি স্তর নিচে নেমে গেছে। তাই আমরা ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবস্থা করেছি। এখন থেকে হাওর এলাকায় নদী ও খাল খননের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে। হাওরে অটো রাইস মিল করার জন্য

সরকার কৃষকদের সহযোগিতা করবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, ধান উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য যা যা প্রয়োজন সরকার সবই করবে। হাওরে ধান গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এটি একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কৃষিকে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ করবো। কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেন, কৃষি ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন বিদেশীদের হতবাক করেছে। পাঁচ বছরে বাংলাদেশ কিভাবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, এ নিয়ে বিদেশীদের মাথা নষ্ট। আমরা বিভিন্ন দেশের তুলনায়

উন্নয়নে এগিয়ে রয়েছি। কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষক বান্ধব। আজকে দিগন্ত বিস্তৃত হাওরে সোনার ধানের যে অপরূপ বিস্তৃত হাসি দেখা যাচ্ছে, দেশের কৃষকের মুখেও সে রকম অমলিন হাসি ধরে রাখতে চায় সরকার। সে জন্য সরকার কৃষিকে লাভবান ও কৃষকের জীবনমান উন্নত করতে অত্যন্ত উদার ভাবে কৃষি যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন খরচ কমানো ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে কম্বাইন হার্ভেস্টার, রিপারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কৃষকদের

দিচ্ছে। মিঠামইন উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ আয়োজিত এ উৎসবে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম।
এতে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও রাষ্ট্রপতির বড় ছেলে রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ, ব্রি মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর, বারি

মহাপরিচালক ড. নাজিরুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার), জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট জিল্লুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এম এ আফজল, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. ছাইফুল আলম, মিঠামইন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আছিয়া আলম, কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কৃষিবিদ মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রভাংশু সোম মহান।

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেন, হাওরে পর্যাপ্ত পরিমাণ বোরো ধান উৎপাদিত হয়, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ ধান কোনো কোনো বছর আগাম বন্যার কারণে নষ্ট হয়ে যায়। এ ঝুঁকি কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করেছে। ১৫-২০ দিন আগে পাকে এমন জাতের ধান চাষে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকটের কথা চিন্তা করে দ্রুতসময়ে ধান কাটার জন্য হাওরাঞ্চলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, হাওরের বিস্তীর্ণ জমিতে বছরে মাত্র একটি ফসল বোরো ধান হয়। এ ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের

বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে উচ্চফলনশীল জাতের ধান যেমন ব্রি-ধান ৮৯ ও ৯২ উদ্ভাবন করেছেন। আমরা কৃষকদের এসব উন্নত জাতের হাইব্রিড ধানের বীজ দিব। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকার এ হাওরে ৩০টি হার্ভেস্টার মেশিন দিয়েছে। এ মেশিন দিয়ে কৃষকরা স্বাচ্ছন্দে ধান কাটতে পারছেন। আমরা এক সময় অবহেলিত ছিলাম। হাওর থেকে ধান নেয়া খুব কষ্টকর ছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির কারণে রাস্তাঘাট হওয়ায় কৃষকরা আজ অনায়াসে তাদের অর্জিত সোনালী ফসল ঘরে নিয়ে আসতে পারছে। এক সময় হাওরে শত শত একর জমি পতিত ছিল। এবছর তাও নেই। সেচের সম্যসার কারণে অনেক সময় পতিত থাকে। সেচের সমস্যা না থাকলে ১ ইঞ্চি জায়াগাও

পতিত থাকবে না। তিনি বলেন, এ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওরে ৫৪টি ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছে। আগাম বন্যায় ফসল তলানোর সম্ভবনা কম। এবছর আমি ১৪ একর পতিত জমিতে ছাত্রলীগকে দিয়ে ভুট্টা চাষ করিয়েছি। ফলনও ভাল হয়েছে। হাওরে অনেক কৃষক ভুট্টা চাষ করে লাভবান হচ্ছে। পরে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক এমপি ধান কাটার উদ্বোধন এবং কৃষকদের মাঝে ধান কাটার যন্ত্র ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার ও রিপার’ বিতরণ করেন।

About Gazi Mamun

Check Also

চার প্রজন্ম একই ছাদের নিচে, ৩৯ জন সদস্যের এই পরিবার যৌথ পরিবারে উদাহরণ

ছোট পরিবার সুখী পরিবার, এই কথাটি হয়তো আপনি অনেকবার শুনেছে বা পড়েছেন। যেটা আজকের সময়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *