এবার কেজিতে তরমুজ বিক্রি করতে না দেয়ায় উচ্চ মূল্য হাকাচ্ছে বিক্রেতারা

তরমুজ একটি মৌসুমী ফল। প্রতিবছরই এই সময়ে বাজারে ব্যাপক হারে তরমুজ দেখা যায় । তরমুজ মৌসুমী ফল হওয়ায় প্রতি বছরের বর্তমান মৌসুমে অনেকের চাহিদার তালিকায় এই ফলটি থাকে সবার শীর্ষে। তীব্র গরমে সারা দিন রোজা

রাখার পর সন্ধ্যার ইফতারিতে সুস্বাদু তরমুজ খাওয়ার ইচ্ছেটা সকলেরই হয়। তাই বর্তমান বাজারে তরমুজের চাহিদাও ব্যাপক। ফলটির চলতি মৌসুমে গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহ ও মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে তরমুজ ব্যবসায়ীরা ব্যাপক সুযোগ পেয়ে বসেছে।

বাজারে তরমুজের দাম শুনে চোখ কপালে ওঠার অবস্থা। খুব ইচ্ছা এবং তরমুজ কিনার আকাঙ্ক্ষায় বাজারে এসে অসাধু ব্যবসায়ী আর সিন্ডিকেটের কারণে তরমুজের দাম শুনে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক ক্রেতা। ঠিক এমনি এক চিত্র দেখা গেল গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বাজার গুলোতে। তরমুজের

এরূপ দাম থাকলে মৌসুমী এই ফলের স্বাদ গ্রহন করতে পারবে না সাধারণ ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর নাগরিকগণ। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তরমুজ সিন্ডিকেট ভাঙতে ভ্রাম্যমাণ আদালত এর মাধ্যমে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এমনটাই প্রত্যাশা উপজেলার সকল তরমুজ ক্রেতাদের। তরমুজ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে ন্যায্য মূল্যে তরমুজ বিক্রি করার

জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ ক্রেতাগণ। গত ২৯ এপ্রিল একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ হয় ”তরমুজ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে চাষিরা।” এই অনুসন্ধানীমূলক রিপোর্টে বোঝা যায় চাষীদের কাছ থেকে অনেক কম দামে কিনে আনা হয় তরমুজ কিন্তু বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে অনেক চড়ামূল্যে। কালিয়াকৈরের অধিকাংশ পেশাদারী ফলের দোকানদাররা দোকান গুটিয়ে তরমুজ বিক্রিতে ব্যাস্ত সময় পার করছে। কিন্তু কি পরিমান লাভ হলে

অন্যান্য ফল বিক্রি বন্ধ করে তরমুজ বিক্রিতে ব্যস্ত থাকে ব্যবসায়ীরা এমন প্রশ্নই এখন সবার মুখে। সরেজমিনে অভিযোগ পাওয়া গেছে, ঢাকার বাজার, গাবতলী ও অন্যান্য স্থান থেকে লট ধরে ও পিচ হিসেবে কিনে আনা তরমুজ কালিয়াকৈরের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে। আবার কিছু কিছু স্থানে কেজি দরের কথা আপত্তি জানালে ব্যবসায়ীরা কৌশলে কেজি দরের থেকেও আরো অনেক চড়া দাম হাকিয়ে থাকে, যা

সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে। কয়েকটি বাজার ঘুরে ক্রেতাদের অভিযোগ পাওয়া গেছে গত কয়েক দিন আগেও তরমুজের দাম ছিলো অনেক কম। ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতো বড় আকারের তরমুজ, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। উপজেলার কালিয়াকৈর, সফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক সহ সব কয়টি বাজারে একই চিত্র দেখা যায়। তাই চাহিদা মতো অনেকেই তরমুজ ক্রয় করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন ক্রেতারা।

সুলতান নামের এক ক্রেতা বলেন, ভাই কি বলবো অনেক আশা করে তরমুজ কিনতে এসেছি। আমার পরিবারের সকলেই তরমুজ অনেক পছন্দ করে তার মধ্যে এখন প্রচন্ড গরম ও রমজান উপলক্ষ্যে তরমুজ আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় অবশ্যই থাকে। কিন্তু কিছুদিন আগে যে তরমুজ ৩০০ টাকায় কিনেছি সেই তরমুজ আজ কেজি দরে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। আমি কেজি দরের কথা আপত্তি জানাতেই কেজি দরে

থেকে কৌশলে আরো অনেক বেশি দাম চাচ্ছে।ফারজানা নামের আরেক ক্রেতা বলেন, এখন মোটামুটি সাইজের একটা তরমুজ কিনতে গেলে ৫০০ টাকার নিচে কেনা যাচ্ছে না। অথচ একই তরমুজ কিছুদিন আগে আরো অনেক কমে কিনেছি। প্রথমে তরমুজের দাম ৬০ টাকা করে কেজি চেয়েছিল পরে কেজি দরের কথা আপত্তি জানালে ওই তরমুজটি কেজি দামে যা হয় কৌশলে তার থেকে অনেক বেশি দাম চায়। যা সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাহিরে। এটা অমানবিক আচরণ এর থেকে পরিত্রাণ পেতে

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।ভোক্তা অধিকার বাংলাদেশ কালিয়াকৈর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিতুল বলেন, এ ব্যাপারে আমরা অভিযোগ পেয়েছি প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে অতি তাড়াতাড়ি বাজার মনিটরিং করা হবে।এ ব্যপারে কালিয়াকৈর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, এত দাম দেখে তরমুজ কিনে আমি নিজেও অবাক, এতো দাম আমার জানা ছিল না। উপজেলা প্রশাসন থেকে আমাকে ফোন করেছিল আমি বলেছি আপনারা ভ্রাম্যমান

আদালতের টিম নিয়ে আসলে আমি সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুল আমীন জানান, এব্যাপারে বাজার কমিটির সাথে আমরা কথা বলেছি। বিক্রেতাদের কেজি দরে তরমুজ বিক্রি না করে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করার কথা বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা বাজার মনিটরিং করছি, অভিযান চালানো হবে।

About Gazi Mamun

Check Also

চালের চাহিদা কমাতে ভাত কম খেতে বললেন মন্ত্রী

চালের চাহিদা কমাতে মানুষকে ভাত কম খেতে বলেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।তিনি বলেছেন, আমরা অনেক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *