পশুর মত খাঁচাবাসী মানুষ! ভাড়া গুনতে হয় মাসে ১৮ থেকে ২৪ হাজার টাকা!

কথায় আছে, বন্যরা বনে সুন্দর। সেখানে পশুরা-পাখিরা মুক্ত জীবনযাপন করে। কিন্তু লোকালয়ে এলেই নানা কারণে এদের খাঁচায় বন্দি করা হয়। পশুপাখিদের খাঁচায় বাস করার বিষয়টি স্বাভাবিক। কিন্তু যদি মানুষ খাঁচায় বাস

করে সেটা অস্বাভাবিকই বটে! তবে পৃথিবীতে এমন একটি দেশ রয়েছে যেখানে বন্য প্রাণীদের মতো মানুষও খাঁচায় বাস করে। ভাবছেন হয়তো কোনো অনুন্নত দেশ! আপনার এই ধারণা একেবারেই ভুল। কারণ এটি এশিয়ার অন্যতম সম্পদশালী দেশ

হংকং। ড্রাগন অর্থনীতির দেশ হংকং চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এশিয়ায় বহুতল অট্টালিকার যে কয়েকটি শহর রয়েছে তার মধ্যে এটি অন্যতম। ফলে দেশটির বিশাল বিশাল অট্টালিকার ভিড়ে খাঁচার মধ্যে মানুষের বাস একেবারেই অকল্পনীয়। এ যেন

প্রদীপের তলায় অন্ধকার। যদিও হংকংয়ে এই ধরনের খাঁচায় বাস আইনসিদ্ধ। যে কেউ লাইসেন্স নিয়ে খাঁচার বাসা পরিচালনা করতে পারে। খাঁচায় বাস করা অধিকাংশ মানুষই হংকংয়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠী। এই মানুষগুলোর মাথা গোজার কোনো ঠাঁই নেই। তারা এতটাই অবহেলিত যে, নিজেদের একটি বাড়ি করে বা বহুতল

ভবনে একটি ছোট পরিসরের ফ্ল্যাট কিনে থাকার সামর্থ্যটুকুও তাদের নেই। তবে এই খাঁচায় থাকতে গেলেও তাদের বেশ ভালো অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয়। প্রতিটি খাঁচার জন্য মাসে ভাড়া দিতে হয় আঠারো থেকে চব্বিশশত হংকং ডলার যা বাংলাদেশী টাকায় ১৯৬০০ থেকে ২৪১০০ টাকার সমান। সাধারণত একটি

বহুতল ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটে অনেকগুলো খাঁচা থাকে। প্রতিটি খাঁচায় থাকেন একজন মানুষ। কিন্তু এর বিপরীতে পুরো ভবনে থাকে মাত্র দুটি শৌচাগার। খাঁচার বাসিন্দা যতই হোক না কেন দুটি শৌচাগার দিয়ে কাজ সারতে হয়। এক কথায়, অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করতে হয় তাদের। খাঁচার বাসিন্দাদের

কথাতেও এই মানবেতর জীবনের ধ্বনিগুলোই প্রতিধ্বনিত হয়। বেশ কয়েকজন পৌঢ় আছেন যাদের জীবনের প্রায় অর্ধেকটাই খাঁচার বাসাতেই কেটেছে। তাদের মতে, খাঁচাতে বাস মানে কফিনে ঢুকে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।

About Gazi Mamun

Check Also

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই বানর অবিকল মানুষের মত দরদাম করে বাজারে ফল বিক্রি করছে

টিভির পর্দা ছেড়ে মানুষের কাছে এখন আপ’ন হয়ে উঠছে সোশ্যাল মিডিয়া। আর সোশ্যাল মি’ডিয়ায় চো’খ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *