‘বাংলাদেশে হেফাজতে ইসলামের কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই’

আজ ৫ মে। ২০১৩ সালের এই দিনে হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে ঢাকা ঘেড়াও কর্মসূচি এবং তাণ্ডব চালানো হয়েছিলো। সেই দিনটিকে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি কালো দিন। তবে হেফাজত শুধু ৫ মে নয়, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের

বিরোধীতা করে এবং সর্বশেষ স্বার্ধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধীতা করে সারাদেশে তারা তাণ্ডব চালায়। হেফাজতের ৫ মের তাণ্ডব এবং সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে বিশেষ

আয়োজন করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, হেফাজতে বাংলাদেশের রাজনীতি এবং শিক্ষা দুই জায়গাতেই আঘাত করেতে চেয়েছিলো। তারা নিজেদের মতো করে ইসলামী রাষ্ট্র বানিয়ে নারী নেতৃত্ব, নারীদের বোরখা পড়তে বাধ্য করা এবং নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে

অনেক বড় বাধা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলো কিন্তু শেখ হাসিনার ধর্মনিরপেক্ষ নীতি এবং রাজনৈতিক দূরদর্শীতার কারণে পারেন। তবে এবার মুজিববর্ষে নরেন্দ্র মেদির বাংলাদেশ সফলের বিরোধীতা করে তারা প্রমাণ করে দিলো তারা দেশে উন্নয়ন ও প্রতিবেশির সঙ্গে সসম্পর্ক চায় না। তাই আমি মনে করি তাণ্ডব চালানোর

জন্য আইন অনুযায়ি হেফাজতের তাণ্ডবকারীদের বিচার হওয়ার দরকার। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবু উল আলম হানিফ বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম সারাদেশে যে তাণ্ডব চালিয়েছে আইন অনুযায়ি তার বিচার হবে। অপরাধীদের ভিডিও ফুটেজ ও তথ্য প্রমাণসহ গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। যে অপরাধী তার শাস্তি হবেই। যারা রাষ্ট্রীয়

সম্পদ পুড়িয়ে দেয়, মানুষ হত্যা করে, থানা জ্বালিয়ে দেয় তাদেরকে ইসলামের হেফাজতকারী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই, এরা সন্ত্রাসী। আমরা চাই হেফাজতের নামে যারা নাশকতা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা। হেফাজতের বিরুদ্ধে দুই ভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রথমত এরা যাতে ধর্মের নাম ব্যবহার করে নাশকতা না করতে পারে সেটি বন্ধ করতে হবে আইনি

প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, সামাজিকভাবে জনগণকে সচেতন করতে হবে যে এরা আসলে ধর্ম ব্যবসায়ী তবে ধর্মপরায়ণ না। এরা ধর্মের আড়ালে রাজনীতি করে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করেত চায় এদেরকে জনগণের যেন কোনো ধরনের সহানুভূতি না থাকে সেজন্য জনগণকে সচেতন করতে হবে। এভাবে তাদেরকে সামাজিকভাবে কোণঠাসা করা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়

মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ার‌ম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, হেফাজতের মতো উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের বাংলাদেশে কোনো প্রয়োজন নেই। ইসলামের ‘হেফাজত’ করবেন মহান আল্লাহ কিন্তু হেফাতের ইসলামের ‘হেফাজত’ করা দায়িত্ব না। তাই আমি মনে করি হেফাজতের ইসলামের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা দরকার এই সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা নেই। এটা ধর্মকে ব্যবসা হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের আখের গোছায় আর এজন্য ঢাল হিসেবে

কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে ব্যবহার করে। তাই সরকারের উচিৎ হবে কওমি মাদ্রাসায় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়া এবং সেখানে সব ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা আর সেখানে রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে হেফাজতে ইসলাম’ নামক সংগঠনের কোনো প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশে থাকবে না। ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের বলেছেন, হেফাজতের মতো একটি সংগঠন বাংলাদেশে থাকতে পারে না। যারা বাংলাদেশকে মানে না, জাতির পিতাকে মানে তাদের বাংলাদেশে সংগঠন করার অধিকার নেই।

এতোদিন রাষ্ট্রের মদদে তারা সংগঠন করেছি কিন্তু ৫ মের পর মজিববর্ষের অনুষ্ঠানে তাণ্ডবের পর তাদের লাগাম টানা সময় এসেছে। ইতিমধ্যে সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যে অবস্থান নিয়েছে সেই অবস্থান ধরে রেখে ধর্ম ব্যবসায়ী এই অপশক্তিতে এখনই নির্মূল করতে হবে। এবার যদি এই গোষ্ঠিকে ছাড় দেয়া হয় তাহলে এটা অনেক বড় ভুল হবে আর এই

ভুলের মাসুল শুধু রাজনীতিবিদরাই দেবে না পুরো বাংলাদেশের মানুষেকে দিতে হবে। সুতরাং এই মৌলবাদী, সন্ত্রাসী ও ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে এবার কোনোভাবেই ছাড় দেয়া যাবে না। এদেরকে কঠোর হস্তে দমন করত হবে।

সূএ বাংলা ইনসাইডার

About Gazi Mamun

Check Also

‘আমাকে নিয়ে কথা বলেন, কত যোগ্যতা আছে?: ডা. মুরাদ

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান বলেছেন, ‘ডা. মুরাদ মাথা নিচু করে কথা বলবে না। মাথা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *