ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ টাকায় ঈদ বাজার করলেন নিলুফা

ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ টাকায় ঈদের বাজার করতে পেরে খুশি নিলুফা। তার ০৬ সদস্যের পরিবারে এই ৫ টাকার বাজারই ঈদের দিনটির জন্যে যথেষ্ট। এবার নিলুফার মতো ৫ টাকায় ঈদের বাজার করেছে জেলার প্রায় ১ হাজার পরিবার।

বুধবার(১২ মে) দুপুর ১২ টায় ঠাকুরগাঁও বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড়মাঠে জুলুমবস্তি (সহায়) সিজান ২ নামে একটি মানবিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন ৫ টাকায় ঈদের বাজারের আয়োজন করে। এই বাজারে অসহায়দের জন্যে ৫ টাকায় দেওয়া হয়েছে সেমাই, দুধ,

চিনি, তেল, বিস্কুট, চাল ও ১ টি মুরগী। নিলুফা বেগম জানান, তার পরিবারে ৬ জন সদস্য। স্বামী ও সন্তান দিনমজুরের কাজ করে। এভাবেই চলছিলো তাদের সংসার। তবে এই কেরোনার মহামারীতে তারা স্বামী সন্তান কাজ পাচ্ছে না। এমন অবস্থায়

দুবেলা খাবার জুটেনা। সেখানে ঈদের জন্যে আলাদা করে সেমাই-চিনি বাজার করা সম্ভব ছিলো না। তবে জুলুমবস্তির এই ৫ টাকার বাজারের জন্যা এবার ঈদে ভালো খাবার খেতে পারবো। জুলুমবস্তির বাজার থেকে সহায়তা নেওয়া মনসুর বলেন, আমি

আজ অনেক খুসি। কারন ঈদের বাজার করতে পেরেছি। লকডাউনের কারনে কাজ নেই। বাসায় বসে আছি। ভবেছিলাম এবার ঈদে সন্তানদের একটু সেমাই খাওয়াতে পারবো না। তবে এদের সহযোগীতায় শুধু সেমাই না, পোলাও মাংস খাওয়াতে পারবো। সংগঠনটির সভাপতি সুজন খান জানান, ঈদের দিন

কর্মহীন মানুষরা যেন পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে আনন্দে দিন কাটাতে পারে তাই মাত্র পাঁচ টাকায় ঈদ সামগ্রী প্রদান করেছি। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ঈদ সামগ্রী তুলে দিয়েছি আমরা। ঈদ সামগ্রী হিসেবে প্রত্যেককে চাল, সেমাই, তেল, দুধ, চিনি ও সবজি প্রদান করা হয়েছে। আর ঈদ উপহার পেয়ে খুশি সাধারণ

মানুষ। তবে এই পাঁচ টাকা কেনো নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি অসহায় মানুষেররা যেন ক্রয় করে নেওয়ার অনুভূতি পায়। তারা বিষয়টি দান হিসেবে নেক সেটা আমরা চাইনা। তাই এই নাম মাত্র পাঁচ টাকা নেওয়া হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রশাসনের উধ্বতন কর্মকর্তা ও সমাজ সেবকরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, করোনার শুরু থেকেই

অসহায় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এছাড়া সংগঠনটি দেশে করোনা সনাক্তের পর থেকে বন্ধুদের সহায়তা নিয়ে জেলা শহরের সমবায় মার্কেট চত্বরে বাজার মুল্যের চেয়ে শতকরা ৩০ ভাগ কমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার খুলে অসহায় দরিদ্রদের মাঝে বিক্রি করে। এতে ধিরে ধিরে বৃত্তবানরা তাদের পাশে এগিয়ে আসে। ফলে ৩০ ভাগ কমে নিয়মিত বাজার

পরিচালনা করে সংগঠনের সদস্যরা। তাদের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মানুষ তাদের পাশে থেকে সংগঠনের সদস্যদের দিয়ে সদরের ইউনিয়ন পর্যায়েও ৩০ ভাগ কমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিচালনা করায়।

About Gazi Mamun

Check Also

কাঁচাবাজার-নিত্যপণ্যের কেনাবেচা ৬ ঘণ্টা!

আটদিনের শিথিলতা শেষে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ফের ১৪ দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ দিয়েছে সরকার। শুক্রবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *