আজান শোনা লাগবেনা এটা ফরজ নয়: বললেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) অডিটোরিয়াম সংলগ্ন ইবাদত খানা এবং অডিটোরিয়ামের মধ্যে কোন দেয়াল নেই। মাগরিবের নামাজের সময় হওয়ার সাথে সাথে সেখানে মুয়াজ্জিন
আজান দিচ্ছিলেন। আর ওই সময়ই অডিটোরিয়ামে

বক্তব্য করছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক মঞ্চের সামনে থেকে একজন শ্রোতা উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, পাশে আজান হচ্ছে। তার কথায় কর্ণপাত না করে নিজের বক্তব্য চালিয়ে
যাচ্ছিলেন মন্ত্রী। লোকটি আবার বললেন, আজান হচ্ছে পাশে।

এবার মন্ত্রী বলে উঠলেন ‘আজান ফরজ নয়, নামাজ ফরজ।
আজান শোনা লাগবেনা। আমাদের দেশের মানুষের এই একটি সমস্যা। আজানের একজন উত্তর দিলে চলবে। শোনা লাগবেনা’। তিনি মঞ্চের সামনে বসা একজনকে বলেন, ‘আপনি আজানের
উত্তর দিন।’ এই বলে নিজের বক্তব্য দীর্ঘায়িত করতে থাকেন।

মন্ত্রীর এমন বক্তব্যে মঞ্চে থাকা বেশ কয়েকজন শ্রোতাকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তারা বলেন, ‘যেহেতু এখানে অডিটোরিয়াম এবং নামাজ ঘরের মাঝে কোন দেয়াল নেই, সেহেতু একটুখানি সময় নিজের বক্তব্য বন্ধ রাখলেই ভালো হতো।’
সংগঠনের সভাপতি ড. শামসুল হক ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক

ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দীন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম, বাহলুল মজনুন চুন্নু প্রমুখ আরও পড়ুন – করোনা ভাই’রাস মহান আল্লাহর একটি পরীক্ষা। বর্তমানে পা’প ও পত’নের চর’মে পৌঁছেও মানব সভ্যতা প্রতি মুহূর্তে নানান বিপ’র্যয়ের মুখোমুখী। এই’ডস, ডে’ঙ্গু,
ইবোলা, নিপা জিকা, কতো নাম-জাতের রোগেই না আক্রা’ন্ত হচ্ছে মানুষ। তাই গবেষণা ও প্রতি’রোধের সব প্রয়াসে ব্যর্থ হয়ে

বাঁচার করুণ আর্তিতে দীর্ঘশ্বাস এখন বিশ্বময়। চীনসহ বিশ্বের দেশে দেশে নতুন আতঙ্কের নাম করোনা ভাই’রাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জারি করেছে সতর্কতা। আসলে মহান আল্লাহ্র পরীক্ষার নাম করোনা ভাইরাস। মহান আল্লাহর শ্রেষ্টতম সৃষ্টি মানুষ যখন আল্লাহ্কে ভুলে যায় বেপ’রোয়া হয়ে ওঠে তখনই আল্লাহর গ’জব নেমে আসে শান্তির পৃথিবীতে: করোনা ভাইরাসের আরেক নাম
২০১৯-এনসিওভি। ভাইরাসটির বহু প্রজাতির মধ্যে বিশেষ ০৭টি মানব দেহে সংক্রমিত হয় জ্ঞানীদের ধারণা, ভাইরাসটি দেহকোষের ভেতর গঠন বদলে শক্তি ও সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে এবং একজন

থেকে আরেকজনের ফুসফুসে সংক্র’মণ ঘটিয়ে শ্বাস’তন্ত্রের মাধ্যমে ছড়াতে পারে শরীরে ঢোকার পর ভাইরাসটির লক্ষণ প্রকাশিত হতে সময় লাগে পাঁচ দিন। করোনা সংক্রমণের লক্ষণ জ্বর, শুকনো কাশি, শ্বাস কষ্ট। পরিনামে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়া, নিউমোনিয়া এবং সবশেষ মৃ’ত্যুর প্রহর গণা বা মৃ’ত্যু চীনের উ’হান শহরে করোনার প্রাদুর্ভাব। ভাইরাসের প্রথম সং’ক্রমণ কিভাবে ঘটে ছিল তা নিশ্চিত নয়। তবে সম্ভবত, কোনো প্রাণিজ সামুদ্রিক খাবারের মধ্যে ভাইরাসের উৎস লুকিয়ে আছে অথবা অন্য কোথাও বুঝতে
হবে আমাদের এই শরীর আমাদের নয়, এটা আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে কিছুদিনের জন্য। তাই করোনার ব্যাপারে হতাশার কারণ

নেই, বরং মনে রাখতে হবে পবিত্র কুরআনের অভয়বাণী “আল্লাহ্র রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না” (সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৭) মহান আল্লাহ্ ক’ষ্ট দেওয়ার জন্য বা সম্পূর্ণ’রূপে ধ্বং’স করবার জন্য মানুষকে সৃষ্টি করেননি। বরং মহান আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদেরকে তাঁর কিছু নিদর্শন দেখান, যেন মানুষের বোধোদয় হয়। তিনি বলেন আমি ভ’য় দেখানোর জন্যই (তাদের কাছে আযা’বের) নিদর্শনসমূহ পাঠাই” (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৫৯)।
এভাবেই মানুষ কিয়ামতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এপ্রসঙ্গে সতর্ক করে প্রিয়নবী (স.) বলেন “……..সে সময় তোমরা অপেক্ষা করো: রক্তিম বর্ণের ঝড়ের (এসিড বৃষ্টি) ভূ-কম্পনের,
ভূমিধ্বসের, রূপ বিকৃতির (লিঙ্গ পরিবর্তন) পাথর বৃষ্টির এবং সূতোছেড়া (তাসবিহ্) দানার ন্যায় একটির পর একটি

নিদর্শনসমূহের জন্য” (তিরমিযি) তবে কোনো রোগেই মু’মিনের হতাশ হওয়া উচিত নয়। প্রিয়নবী (স.) বলেন “নিশ্চয়ই আল্লাহ্ রো’গ ও চিকি’ৎসা দু’ই পাঠিয়ে দেন….. সুতরাং চি’কিৎসা গ্রহণ কর” (আবু দাউদ)। ইবনু আব্বাস (রা.) বর্ণিত ‘একদা ইব্রাহিম (আ.) জিজ্ঞেস করলেন হে আমার প্রতিপালক রোগ কার পক্ষ থেকে? আল্লাহ্ বলেন আমার পক্ষ থেকে”! জানতে চাইলেন ঔষধ কার পক্ষ থেকে? জবাব এলো “আমার পক্ষ থেকে” আবার জানতে চাইলেন তবে চিকিৎসক? জবাব এলো “চিকিৎসকের মাধ্যমে ঔষধ পাঠানো হয়….মানব সভ্যতায় অনাচার অশ্লী’লতার বৃদ্ধির ফলে নেমে আসছে ভয়াবহ মা’নবিক বিপর্যয়। প্রিয়নবী
(স.) বলেন “যখন কোনো জাতির মধ্যে অশ্লী’লতা প্রকাশ্যভাবে চলতে থাকে, তখন তাদের মধ্যে প্লে’গ এবং এমন অভি’নব দুরারো’গ্য ব্যা’ধি দেওয়া হয় যা তাদের পূর্বপুরুষেরা কখনো

শোনেনি” দায়লামি। করোনা প্রসঙ্গে আজো প্রিয়নবীর (স.) বাণী তাৎপর্যপূর্ণ।রোগ-শোকের মাধ্যমে মু’মিনকে পরীক্ষা করা হয়, এতে তার ঈমানিশক্তি বৃদ্ধি পায়। রোগের মধ্যেও পাওয়া যায় কল্যাণের বার্তা। যেমন: একদা প্রিয়নবী (স.) হযরত আবু হুরাইরাকে (রা.) সঙ্গে নিয়ে জ্ব’রের রোগী দেখতে যান। তিনি (স.) বলেন সুসংবাদ গ্রহণ করো। আল্লাহ্ বলেন, ‘আমার আ’গুন দুনিয়াতে আমি আমার মু’মিন বান্দার ওপর প্রবল করি, যেন তা আখিরাতের আগুনের বিনিময় হয়ে যায় (তিরমিযি) ইবনু উমর (রা.) বর্ণিত অন্য এক হাদিসে আছে প্রিয়নবী (স.) বলেন জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে হয়। কাজেই তাকে পানি দিয়ে নিভাও

About Gazi Mamun

Check Also

বিএনপির সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিটি রাত ছিল দুঃস্বপ্নের: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির শাসনামলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য প্রতিটি রাত দুঃস্বপ্নের ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *