ইভ্যালিসহ দেশের ই-কমার্সে আরেকটা ‘ডেসটিনি চিত্র’র শঙ্কা রাব্বানীর

দেশীয় ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস ইভ্যালির চলতি মূলধনের পরিমাণ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা হলেও প্রতিষ্ঠানটির ঋণ রয়েছে প্রায় ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এতে মূলধনের চেয়ে ছয় গুণ ঋণে ডুবে আছে অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার

প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি এসব তথ্য উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ পরিশোধ করার সক্ষমতা নেই বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে নিজের

মতামত ব্যক্ত করছেন দেশের সচেতন নাগরিকরা। এবার সে কাতারে যোগ দিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। আজ বুধবার (২৩ জুন) নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক একাউন্ট থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে ইভ্যালিসহ দেশের সকল অনলাইন ই-কমার্স

প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এই ছাত্রলীগ নেতা। তিনি বলেন, ‘ইভ্যালিসহ দেশের সকল অনলাইন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ নজরদারির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত, ইভ্যালি যেভাবে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে গ্রাহকদের প্রয়োজন বা অনেক ক্ষেত্রে লোভকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ টানছে, তাতে আবার একটা ‘ডেসটিনি চিত্র’ দেখার শঙ্কা থাকছেই!’

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রতিবেদন বলেছে, বর্তমানে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে ইভ্যালীর দেনার পরিমাণ ৪০৩.৮০ কোটি টাকা, আর কোম্পানির চলতি সম্পদ মাত্র ৬৫.১৭ কোটি টাকা! তাহলে এই ৩৩৮.১৭ কোটি টাকার বিরাট ফারাক ইভ্যালি কিভাবে দূর করবে, তার সদুত্তর কে দেবে, যত দিন যাবে ফারাক কিন্তু বাড়বে, একসময় হাজার কোটি পেরিয়ে যাবে, অতঃপর ঠাস করে যে বন্ধ হয়ে যাবে না, তার গ্যারান্টি কে

দেবে??’ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য দেয়া নেয়ার নিয়ম নিয়ে রাব্বানী লেখেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে পন্য ডেলিভারি না দেয়ার হাজার হাজার অভিযোগ, আর সময়ের বাইরে গ্রাহকের বিনিয়োগ করা টাকা যে মাসের পর মাস পরে থাকছে, এটা অবশ্যই তাদের একটি আয়ের মাধ্যম, যা অবশ্যই অনৈতিক। আচ্ছা, এই টাকাটা কোন খাতে, কিভাবে বিনিয়োগ হচ্ছে, খাতগুলো বৈধ না অবৈধ, তাতে আমাদের সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন নজরদারি আছে? উহু, নেই।’ তিনি বলেন, ‘আগে তিতা, পরে মিঠা।

লাখো-কোটি সাধারণ গ্রাহকদের বড় ধরনের ক্ষতি হবার আগেই ইভ্যালিসহ দেশের সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি। বলা বাহুল্য, ভোক্তা অধিকার আইন-২০০৯ ভোক্তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিতে পারছে নাহ, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অনলাইনভিত্তিক অভিযোগ প্লাটফর্ম সৃষ্টি সহ যুগোপযোগী আপডেট করতে হবে।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নজরদারির বাইরে থাকা ই-কমার্স সাইটগুলোয় উচ্চ মাত্রায় আর্থিক লেনদেনের ঝুঁকির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে একটি রিপোর্ট পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অগ্রিম অর্থের তুলনায় এসব প্লাটফর্মের দৃশ্যমান তেমন কোনো সম্পদ না থাকার বিষয়টিই সেখানে তুলে ধরা হয়েছিল।
রিপোর্টে বলা হয়, অনলাইনভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান (ই-কমার্স) ইভ্যালির চলতি সম্পদের পরিমাণ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সম্পদের চেয়ে ৬ গুণের বেশি এই দেনা

পরিশোধ করার সক্ষমতা কোম্পানিটির নেই। কোম্পানিটি চলতি দায় ও লোকসানের দুষ্ট চক্রে বাঁধা পড়েছে’ উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ‘ক্রমাগতভাবে সৃষ্ট দায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব টিকে না থাকার ঝূঁকি তৈরি হচ্ছে।’
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ইভ্যালি ও আলেশা মার্টসহ ১০টি ই-কমার্স সাইট থেকে ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রি-পেইড কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। মঙ্গলবার (২২ জুন) বিষয়‌টি নিশ্চিত করেছেন ব্র্যাক ব্যাংকের গণসংযোগ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা ইকরামুল কবীর। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিং, সিরাজগঞ্জ শপিং, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, কিউকম, আদিয়ান মার্ট ও নিডস ডট কম বিডি।

About Gazi Mamun

Check Also

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেন বাংলাদেশি ডা. তাসনিম জারা

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সুপাইরভাইজার (আন্ডারগ্রাজুয়েট) হিসেবে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা গত সোমবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *