পারসিভারেন্স-ইনজেনুইটি সেলফি রহস্য ফাঁস করল নাসা

গত ৬ এপ্রিল, মঙ্গলের গ্রহের মাটিতে ইনজেনুইটি হেলিকপ্টারের সঙ্গে নাসার পারসিভারেন্স রোভার একটি ঐতিহাসিক সেলফি ‍তুলেছিল। যে ক্যামেরা এই সেলফি তোলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, তার নাম ওয়াটসন। 

রোভারের রোবটিক বাহুর শেষ প্রান্তে লাগানো রয়েছে এই ক্যামেরা। কিন্তু মার্কিন মহাকাশ সংস্থা ইনস্টাগ্রামে যে ছবি প্রকাশ করেছে, আশ্চর্যজনকভাবে সেখানে এই রোবোটিক বাহু দেখা যায়নি। ফলে দর্শকরা হয়রান হয়েছেন এই ভেবে যে, তাহলে কীভাবে তোলা হলো এই সেলফি?

এই জটিল কৃতিত্ব কীভাবে সম্ভব হয়েছে, এবার তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে নাসা। এক ব্লগ পোস্টে মহাকাশ সংস্থাটি জানিয়েছে, রোভার মোট ৬২টি আলাদা আলাদা ছবি তুলেছিল। সেসব ছবিকে একত্রিত করে চূড়ান্ত সেলফি প্রকাশ করা হয়েছে।

সহজ শোনালেও, ৬২টি আলাদা ছবিকে একসঙ্গে করে একটি ছবি তৈরি করার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল। বিজ্ঞানীরা যথেষ্ট পরিমাণ ইমেজ ওভারল্যাপিংয়ের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত ছবি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। চূড়ান্ত ছবিতে রোভারের রোবোটিক বাহু, যেখানে ক্যামেরা ফিট করা ছিল, সেটিকে আর রাখেননি

বিজ্ঞানীরা। ব্লগে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে নাসা। ভিডিওতে পারসিভারেন্স রোভারকে রোবটিক বাহু ব্যবহার করে ৬২টি ছবি তুলতে দেখা গেছে। এছাড়া ভিডিওতে নাসার পারসিভারেন্স প্রকল্পের রোবটিক অপারেশন্স বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ভান্দি ভার্মা মানুষের সেলফি তোলা এবং রোভারের

সেলফির তোলার মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, রোবোটিক বাহু পুরোপুরি প্রসারিত করা সত্ত্বেও ক্যামেরা পুরো রোভারটিকে একক ছবিতে কাভার করতে পারে না। কারণ ওয়াটসন ক্যামেরাটি মঙ্গল গ্রহে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য ক্লোজ-আপ ডিটেইলস শট নেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাই বিজ্ঞানীরা একাধিক ছবি নিয়েছিলেন এবং তারপর সেগুলো

একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে সেলফি তৈরি করেছেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গল গ্রহের ‘জেজোরো ক্রেটার’ নামক এলাকায় নিরাপদে অবতরণ করে নাসার মঙ্গলযান পারসিভারেন্স রোভার। গত বছরের জুলাইয়ে পৃথিবী থেকে উড়াল দেয়ার সাত মাস পর ৪৭ কোটি মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মঙ্গল গ্রহে পা রাখার জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হয় পারিসিভারেন্স। এই রোভারের মধ্যেই

ছিল নাসার মার্স হেলিকপ্টার ইনজেনুইটি। এই হেলিকপ্টার এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে রোভারের মধ্যে থেকে বেরিয়ে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠদেশ ছুঁয়েছিল। গত ১১ এপ্রিল প্রথমবার উড়েছিল এই হেলিকপ্টার, যা পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো গ্রহে হেলিকপ্টারের প্রথম উড়ান। মঙ্গল গ্রহে প্রাণ এবং পানির প্রমাণ খুঁজতে কাজ করছে নাসার এই মার্স হেলিকপ্টার। এর পাশাপাশি গ্রহটির ভূ-প্রাকৃতিক গঠন, বায়ুমণ্ডলীয় স্তর এবং অন্যান্য বিষয় নিয়েও গবেষণা করেছে ইনজেনুইটি। তবে হেলিকপ্টার বলা হলেও আসলে এটি একটি ক্ষুদ্র ড্রোন।

About Gazi Mamun

Check Also

আফগানিস্তানে জুমার নামাজে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত বেড়ে ৩২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশের একটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজের সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ৩২ জন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *