সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের মেরামত, আতঙ্ক জনমনে

সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের পুরাতন জেলখানা ঘাট এলাকায় আকস্মিক ধসে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বাঁধের দেড়শ মিটার। গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী বাঁধটি রক্ষায় জরুরি মেরামত কাজ আজও অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি নতুন

করে যেন আবার ধস দেখা না দেয় তা নিশ্চিত করতে ম্যাথমেটিক্যাল সার্ভের মাধ্যমে আড়াই কিলোমিটার বাঁধটির সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ম্যাথমেটিক্যাল সার্ভে শেষে বাঁধটিতে আর ধস দেখা দিবে না এমন আশ্বাস দিতে

পারছেন না পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এদিকে শহর রক্ষা বাঁধে আকস্মিক ধসে আতঙ্কিত শহরবাসী সঠিক সময়ে নদীতে ড্রেজিং না করাসহ অপরিকল্পিত বালি উত্তোলনকে দায়ী করেছেন ভাঙন সৃষ্টির জন্য বুধবার (৩০ জুন) সরেজমিন বাঁধ এলাকা ঘুরে, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে

জানা যায়, ২০০১ সালে প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ শহরকে যমুনার ভাঙন থেকে রক্ষায় নির্মাণ করা হয় স্থায়ী সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ। একশ’ বছরের গ্যারান্টি দেয়া বাঁধটি নির্মাণের পর গত ২০ বছরে অন্তত ১৫ বার ধস দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির

ফলে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যমুনা নদীতে সৃষ্টি হওয়া তীব্র ঘূর্ণাবর্তে বাঁধের তলদেশের বালি সড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে আকস্মিক ধস দেখা দেয় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের পুরাতন জেলখানা ঘাট পয়েন্টে। ঘণ্টাব্যাপী ভাঙনে জেলা শহর রক্ষাকারী বাঁধটির প্রায় দেড়শ মিটার নদীতে বিলীন

হয়ে যায়। বাঁধটির ধস রক্ষায় দ্রুত জিও ব্যাগ ও ব্লক ডাম্পিং শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আসে। বুধবার সকাল থেকে আবারও বাঁধটি মেরামত কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি ধস দেখা দেয়া স্থানসহ ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হওয়া বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ম্যাথমেটিক্যাল সার্ভে করা হচ্ছে। ভাঙন ও মেরামত কাজ পরিদর্শনে এসেছেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড উত্তর

পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শফিকুল হক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ) তারিক আল ফয়েজসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। স্থানীয়রা জানান, সঠিক সময়ে নদীতে ড্রেজিং না করায় শহর রক্ষা বাঁধ এলাকায় নদীর গভীরতা কমে গেছে। বাঁধের অদূরে নদীতে চর জেগেছে। এতে নদীর স্রোতে সরাসরি বাঁধে আঘাত করছে। এছাড়াও অপরিকল্পিতভাবে বালি উত্তোলন করার ফলেও বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে স্থায়ী এই

বাঁধটিতে ধস নেমেছে। শহরবাসীর দাবি দ্রুত বাঁধটি সংস্কার করে সিরাজগঞ্জকে সুরক্ষিত করার। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ফজলু জানান, বাঁধের অদূরে নদীতে জেগে উঠা চড়টি ড্রেজিং করে সরিয়ে দেয়া হলে বাঁধে স্রোতের চাপ পড়তো না, সৃষ্টি হতো না ভাঙনের। এই ভাঙন থেকে শহর রক্ষা বাধটি রক্ষা করা না গেলে সিরাজগঞ্জ শহর টিকবে না। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, শহর রক্ষা বাঁধের ভাঙন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বাঁধের ভাঙন দেখা দেয়া স্থানে জিও-ব্যাগ ও ব্লক ফেলে স্থানটি

আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। ভাঙন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম শফিকুল হক জানান, আকস্মিক পানি বৃদ্ধি ও নদীর তলদেশে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ধস দেখা দিয়েছে। মেরামত কাজের পাশাপাশি নদীর তলদেশে সার্ভে চলছে, তবে বৈচিত্র্যময় যমুনা নদী কখন কি রূপ ধারণ করে তা বোঝা মুশকিল। যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।

About Gazi Mamun

Check Also

চার প্রজন্ম একই ছাদের নিচে, ৩৯ জন সদস্যের এই পরিবার যৌথ পরিবারে উদাহরণ

ছোট পরিবার সুখী পরিবার, এই কথাটি হয়তো আপনি অনেকবার শুনেছে বা পড়েছেন। যেটা আজকের সময়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *