ভা’ইরাস থেকে বাঁ’চতে নবীজীর যে নির্দেশনা অত্যন্ত কার্যকর: মার্কিন গবেষক

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘা’তী মহামা’রি করোনাভা’ইরাসে ভীত গোটা মানবসমাজ। নাজুক এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে অসংখ্য উপায় উপকরণের শরণাপন্ন হচ্ছে তারা। কিন্তু আবিষ্কারের পর থেকে এখন পর্যন্ত পরিত্রাণের

ক্ষেত্রে কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না এই সংকটাপন্ন সময়ে তরুণ মার্কিন গবেষক ড. ক্রেগ কন্সিডাইন করোনা প্রতিরোধে মহানবী (সা.)-এর নির্দেশনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটির একজন গবেষক

হিসেবে কর্মরত। এনএএস নিউজে প্রকাশিত তাঁর সাক্ষাৎকারের ভাষান্তর করেছেন বেলায়েত হুসাইন
বিশ্ব কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাস বিজ্ঞানীদের চোখের ঘুম কে’ড়ে নিয়েছে। প্রতিটি দেশের সরকার এবং গণমাধ্যম করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে জনগণকে বিভিন্ন সময় নানা রকম

স্বাস্থ্য টিপস দিয়ে সতর্ক করে যাচ্ছে।মানবসভ্যতার ওপর পতিত বড় এই মহামা’রির প্রতিষেধক খুঁজতে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত আস্থাশীল কোনো উপায়ের সন্ধান পাননি। করোনা প্রতিরোধে কেউ নতুন কিছু বললে সেদিকে সবার আগ্রহ তীব্রতর হচ্ছে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টার একটিই লক্ষ্য সংক্রামক এই ব্যাধি থেকে গোটা পৃথিবীকে কিভাবে সুরক্ষা দেওয়া যায়? পাশাপাশি সুন্দর

ব্যবস্থাপনায় হোম কোয়ারেন্টিনের কথা বলেছেন।একই সঙ্গে সুস্থ লোকদের জন্য জনসমাগম এড়িয়ে একাকী জীবনযাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, এসব উপায়ই করোনা থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। অথচ আপনারা কি জানেন মহামা’রির সময়ে সর্বপ্রথম কে এই কোয়ারেন্টিনের উদ্ভাবন

করেছেন? আজ থেকে প্রায় ১৩ শ বছর আগে ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মাদই (সা.) পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম ‘কোয়ারেন্টিন’-এর ধারণা দেন। তাঁর সময়ে উল্লেখযোগ্য কোনো সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ছিল না। তবে তিনি এসব রোগব্যাধিতে করণীয় সম্পর্কে তাঁর অনুসারীদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন এককথায় তা ছিল দুর্দান্ত! তাঁর মূল্যবান সেই পরামর্শ মানলেই করোনার মতো

যেকোনো মহামারি থেকে যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করা যায়।এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, যখন তুমি কোনো ভূখণ্ডে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনতে পাও তখন সেখানে প্রবেশ কোরো না। পক্ষান্তরে প্লেগ যদি তোমার অবস্থানস্থল পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে ওই জায়গা ত্যাগ কোরো না। তিনি আরো বলেন, সংক্রামক ব্যাধিতে আ’ক্রা’ন্ত ব্যক্তি সুস্থ মানুষের থেকে দূরে থাকবে।

এভাবে বিভিন্ন সময়ে নানা পরিস্থিতিতে ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সা.) তাঁর অনুসারীদের বিশেষ করে রোগব্যাধিতে আ’ক্রা’ন্ত লোকদের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও উদ্বুদ্ধ করতেন।এ ব্যাপারে তাঁর অমূল্য কিছু কথামালা হলো, ‘পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ’, ‘ঘুম থেকে জেগেই দুই হাত ধৌত করো। কেননা ঘুমের মধ্যে তোমার হাত কোথায় নড়াচড়া করেছে তুমি জান না’, ‘খাওয়ার আগে ও পরে ধৌতকরণের মধ্যেও বরকত রয়েছে’ ইত্যাদি। মোটকথা, তাঁর অনুসারীরা যেকোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হোক তা থেকে

পরিত্রাণের ব্যাপারেই তিনি তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। ধর্মীয় ক্ষেত্রে তিনি যেমন ব্যাপক অবদান রেখে অমর হয়ে আছেন, ঠিক তেমনই মানুষের জীবনযাপন বিষয়ক মহামূল্যবান যে পরামর্শ তিনি দিয়ে গেছেন তা আজও অনুকরণীয়।

About Gazi Mamun

Check Also

হযরত উসমান (রা.)-এর নামে হোটেল ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান বিন আফফান (রা.)-এর নামে সৌদি ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্ট অদ্যবধি সচল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *