কোলে কোলেই চড়ে বেড়ায় ‘রানি’, ২০ ইঞ্চি গরুটির সন্ধান মেলে নওগাঁয়

ইতোমধ্যে রানি সুপরিচিত হয়ে গেছে। বক্সার ভুট্টি জাতের গরুটির আদর-যত্নের কোনো অভাব নেই। আলাদা লোক নিয়োজিত রয়েছে। এমন গরু এর আগে কেউ দেখেছে কিনা সন্দেহ আছে। রানির উচ্চতা মাত্র ২০ ইঞ্চি, লম্বায় ২৭ ইঞ্চি।

দুই বছর বয়সী খর্বকায় গরুটির ওজন ২৬ কেজি। কোরবানি উপলক্ষে এর দাম উঠেছে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। রানির বাস সাভারের আশুলিয়ার চারিগ্রাম গ্রামের শিকড় অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি খামারে। রাতে শোবার আগে ধুয়ে দেওয়া

হয় রানির পা। সারাদিন ধরে চরে বেড়ায় লোকের কোলে কোলে। এর চেয়েও বড় খবর হলো, আর কিছুদিনের মধ্যেই রানির মাথায় উঠতে পারে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ‘মুকুট’। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে রানিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু। খামারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান

কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই বছর আগে নওগাঁয় গরুটির সন্ধান পাই। তখন থেকেই আমরা এটার পেছনে লেগে ছিলাম। মনে হয়েছিল এটাই হবে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরু। ১ জুলাই আমরা গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের কাছে এ জন্য আবেদন করেছি। তারা আমাদের রিপ্লাইও দিয়েছে। তারা নিজস্ব যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে আমাদের নিশ্চিত করবে।’

প্রায় ১১ মাস আগে নওগাঁর বাবু নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে রানিকে কিনে আনেন সুফিয়ান। গরুটিকে দিনে দুই বেলা খাবার দিতে হয়। খামারের কর্মীরা জানান, রানির জন্য খামারে আলাদা লোক রাখা আছে। অন্য গরু থেকে রানিকে আলাদা রাখা হয়। আকারে ছোট হওয়ায় অন্য গরুর তুলনায় সে খাবারও কিছুটা কম খায়। রানির জন্মের ঠিকুজি বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে তার

জন্ম বাংলাদেশেই বলে জানিয়েছেন খামারিরা। গিনেস বুকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরুটি রয়েছে ভারতের কেরালা রাজ্যে। মানিকিয়াম নামের ওই গরুটির বয়স চার বছর। উচ্চতা ২৪ ইঞ্চি এবং ওজন ৪০ কেজি।এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি

অনুষদের অধ্যাপক ড. এ এস মাহফুজুল বারি কালের কণ্ঠকে বলেন, কী কারণে গরুটির এমন আকার হয়েছে তা শুধু পরীক্ষার মাধ্যমে বলা সম্ভব। গরুটি আমাদের কাছে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য দিলে সঠিক বিষয়টি জানা যাবে। তবে ধারণা করছি, জেনিটিক্যাল, হরমোন কিংবা কঙ্কালতন্ত্রের কোনো

ক্রিয়ার সমস্যার কারণে এমনটি হতে পারে।এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য জানার জন্য অবশ্যই গবেষণার প্রয়োজন। গরুর মালিক যদি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন গবেষণার সুযোগ করে দেন তাহলে এটি থেকে অনেক বিষয় জানা সহজ হবে।

About Gazi Mamun

Check Also

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেন বাংলাদেশি ডা. তাসনিম জারা

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সুপাইরভাইজার (আন্ডারগ্রাজুয়েট) হিসেবে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা গত সোমবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *