জামায়াতে নামাজ আদায়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা

দেশে চলমান করোনা পরিস্থিতির জন্য আরোপিত সকল বিধি-নিষেধ ও কার্যক্রমের সময়সীমা ০৭ জুলাই মধ্যরাত থেকে ১৪ জুলাই দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত বৃদ্ধি করায়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আরোপিত বিধি-নিষেধ

এবং মসজিদসমূহে জামায়াতে নামাজ আদায়ের জন্য কিছু শর্ত পালনের অনুরোধ করে জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে এবং আগত

মুসল্লিদেরকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। ফরজ নামাজ প্রসঙ্গে বলেছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাধারণ অবস্থায়ও সুন্নত ও নফল নামাজ বাসায় আদায় করে ফরজ নামাজ জামায়াতের সাথে মসজিদে আদায় করতেন। বর্তমান

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে প্রত্যেক মুসল্লিকে নিজ নিজ বাসা থেকে ওযু করে, সুন্নত ও নফল নামাজ ঘরে আদায় করে শুধুমাত্র ফরজ নামাজ মসজিদে আদায় করতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বে

সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুনাশক দ্বারা পরিস্কার করতে হবে, মুসল্লিগণ প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে। কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।শিশু, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি ও অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামায়াতে অংশগ্রহণ করা হতে বিরত থাকবেন।

সংক্রমণরোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদের ওযুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ

করতে হবে। করোনা মহামারির এ বৈশ্বিক মহাবিপদ হতে রক্ষা পেতে বেশি বেশি তওবা, আস্তাগফিরুল্লাহ ও কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে এবং আমাদের কৃত অন্যায়-অপরাধ এর জন্য নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে; এবং সম্মানিত খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি

বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় উপসচিব মোহাম্মদ কুদ্দুছ আলী সরকার জানান, ‘উল্লিখিত নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক

ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’ উল্লেখ্য, অন্যান্য সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান/উপাসনালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার/সাবান দিয়ে হাত ধোয়াসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক ও শারীরিক দুরত্ব যথাযথভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

About Gazi Mamun

Check Also

ভাসমান সেই মসজিদে প্রথম জুমার নামাজ আদায়

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের হাওলাদার বাড়ির পুরনো মসজিদটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় খোলপেটুয়া নদীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *