ত্রানের স্লিপ চাওয়ায় গলা ধাক্কা খেয়ে দাঁত ভেঙে গেলো শতবর্ষী বৃদ্ধার

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: অভাবের তাড়নায় ত্রানের স্লিপ চেয়ে চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার স্ত্রী ও কন্যার গলা ধাক্কা খেয়ে দাঁত ভেঙ্গে গুরুতর আহত হয়েছেন আলেমা বেওয়া (৯৫) নামে শতবর্ষী এক বৃদ্ধা।

বর্তমানে তিনি লালমনিরহাটের আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সোমবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন বৃদ্ধা আলেমা বেওয়া। আহত বৃদ্ধা উপজেলার

পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি মদনপুর গ্রামের মৃত ছপির উদ্দিনের স্ত্রী ও রিকশা চালক নুরুজ্জামানের মা
আর এ ঘটনাটি ঘটেছে ঐ উপজেলার পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলীর বাড়িতে। এ ঘটনায় বৃদ্ধার ছেলে রিকশা চালক নুরুজ্জামান বাদী হয়ে ঐ ইউপি চেয়ারম্যান,

তার স্ত্রী ও মেয়ের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।
অভিযোগে সুত্রে জানা গেছে, দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত আলেমা বেওয়া রিকশা চালক ছেলে নুরুজ্জামানের সংসারে বসবাস করেন। সাম্প্রতি করোনাকালীন সময়ে লকডাউনে তার ছেলের আয় রোজগার কমে যায়। ফলে নিদারুন অর্থ কষ্টে পড়েন পরিবারটি।

৪ দিন আগে পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলী ত্রাণ দেয়ার কথা বলে বৃদ্ধা আলেমার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি নেন। সেই ত্রাণ নিতে গতকাল সোমবার (১৯ জুলাই) সকালে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকেন চেয়ারম্যান।

পরিষদে গেলে ঐ বৃদ্ধাকে ডেকে ইউপি চেয়ারম্যান তার বাড়িতে রাখা স্লিপ নিয়ে আসতে বললে বৃদ্ধা পরিষদের পাশে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বৃদ্ধাকে কেউ স্লিপ দেয়নি। এরই মধ্যে ত্রাণ বিতরন শেষ করে চেয়ারম্যান বাড়িতে চলে আসলে তার কাছে ত্রাণের স্লিপ চান অসহায় বৃদ্ধা। এ সময় চেয়ারম্যান রাগান্বিত হয়ে তার নির্দেশে স্ত্রী

আনোয়া বেগম (৪৫) ও মেয়ে সুহিন আক্তার (১৯) বৃদ্ধা আলেমা বেওয়াকে গলা ধাক্কা দিলে ক্ষুধার্ত বৃদ্ধা মেঝেতে পড়ে গেলে তার দাঁত ভেঙ্গে রক্তাক্ত জখম হন। এতে বৃদ্ধার হাত, পা ও বুকে প্রচন্ড আঘাত পেয়ে সজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পরে বৃদ্ধার অবস্থা বেগতিক দেখে ঐ চেয়ারম্যান দ্রুত পল্লী চিকিৎসক ডেকে প্রাথমিক

চিকিৎসা দিয়ে বৃদ্ধাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এদিকে মায়ের অসুস্থতার খবরে পেয়ে রিকশা চালক ছেলে নুরুজ্জামান স্থানীয়দের সহায়তায় বৃদ্ধা আলেমাকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে রাতে এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধার ছেলে নুরুজ্জামান বাদি হয়ে চেয়ারম্যান শওকত আলীকে প্রধান অভিযুক্ত করে

চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও মেয়ের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
হাসপাতালের বেডে কান্না জড়িত কন্ঠে বৃদ্ধা আলেমা বেওয়া বলেন, হামরা গরিব জন্য সরকারী তেরান নিবার গেছি। চেয়ারম্যানের কথা মত স্লিপ নিতে তার বাড়ি গেছি। সারাদিন বসি থাকি বিকেলে তেরান তো নাই, স্লিপটাও না দিয়া চলে যাবার

কইছে (বলছে)। বাড়ি থেকে বের হতে দেরি (বিলম্ব) করায় বউ বেটি (স্ত্রী-মেয়ে) গলা ধাক্কা দিয়া পাকার উপর ফেলে দিছে। তারপর কি হয়েছে মুই যানোং (আমি জানি) না বাপু। অভিযুক্ত পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলীর সাথে কথা বলতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত

কর্মকর্তা(ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে  বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে অফিসার পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধের দায়ের করা অভিযোগটি বাদির সাথে  আপোষের প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।
উল্ল্যখ্য, গত সপ্তাহে মধ্যরাতে নিজ বাড়িতে শ্যালিস বৈঠকে স্ত্রী

সন্তানের সামনে এক ব্যবসায়ী অমানুষিক নির্যাতেন অভিযোগ আদিতমারী থানায় চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন আহত ব্যবসায়ী। সেটিও রহস্যজনক ভাবে নথিভুক্ত হয়নি।

About Gazi Mamun

Check Also

ছেলের ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন না বৃদ্ধা মা

কুড়িগ্রামের চিলমারীর রমনা ইউনিয়নের শরীফের হাট হাজিপাড়া এলাকায় ছেলের হাতে নিযার্তিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাশেষে বাড়িতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *