মা আমি টাকা দিচ্ছি, আপনি ঘরে ফিরে যানঃ পুলিশ

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক পুলিশ বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে৷ গুটিকয়েক পুলিশ সদস্যের নীতিভ্র’ষ্টতার কারণে এমন অভিযোগ পুরো পুলিশ বাহিনীর উপর এসে পড়ে৷ তবে এর পেছনে নাগরিক সমাজের ভূমিকাও কম দায়ী নয়।

নতুন খবর হচ্ছে, কাঁপা কাঁপা শরীর নিয়ে প্রায় চার মাইল হেঁটে কলা ‘বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন ৭০ বছরের বৃ’দ্ধা রেনু আক্তার। তার স্থানীয় গ্রামের বাজারে মানুষ নেই। তাই কলা ‘বিক্রির আশায় শেষ পর্যন্ত যাচ্ছিলেন প্রায় চার মাইল দূরের বারহাট্টার

গোপ’ালপুর বাজারে। রেনু আক্তার নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজে’লার প্রেমনগর ছালিপুরা গ্রামের বাসিন্দা। তবে গোপ’ালপুর বাজারে পৌঁছানোর আগেই আটকে দিল পুলিশ। চলমান

লকডাউনের কারণে বসানো চেকপোস্টে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান মুখোমুখি বৃ’দ্ধা রেনু। প্রশ্নের জবাবে ওসিকে জানালেন নিজের অ’সহায়ত্বের কথা। ঘরে টাকা পয়সা নেই। খাবার নেই। তাই কলা ‘বিক্রি

করে খাবার নেবেন তিনি। রেনু বেগম জানান, ঘর থেকে বের হতে না পারায় কাজকর্মও বন্ধ। তাই খাবারের অভাবে পেট চালাতে পারছেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত উপায় না পেয়ে বাড়ির গাছের থেকে কলা নিয়ে বাজারের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন।

সংসার জীবনের দারিদ্র্যতার কথা জানিয়ে তিনি বললেন, এক ছেলে এক মেয়ে আছে। কিন্তু তারা নিজেরাই চলতে পারে না, অভুক্ত থাকে। ওদের জীবনই তো দুর্বি’ষহ। যদি ওরা নিজেরা চলতে পারতো এবং তখন যদি আমার ভরণপোষণ না করতো

তবে মনে ক’ষ্ট থাকতো। কিন্তু এখন তা নেই। নিজেরাই চলতে পারছেন না। এদিকে সবকিছু শুনে অফিসার ইন-চার্জ অ’সহায় বৃ’দ্ধা রেনু বেগমকে বললেন, মা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করো’না মধ্যে আপনার বাইরে থাকা বা কলা ‘বিক্রির দরকার নেই।

আমি টাকা দিচ্ছি, কি দরকার তা কিনে আপনি ঘরে চলে যান। অফিসার ইন-চার্জ মো. মিজানুর রহমান’র কথা শুনে তার দেয়া টাকা হাতে পেয়ে বেজায় খুশি হলেন রেনু বেগম।

About Gazi Mamun

Check Also

পু’লিশ সার্জেন্ট আমাকে এইভাবে সাহায্য করবে আমি ভাবতে পারি নাই

নিজের বাইকের তেল পলিথিনে ভরে ফ্লাইওভা’রের উপর বিপদে পড়া এক বাইকআরোহীকে দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিলেন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *