রাস্তায় পরে থাকা ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ফিরিয়ে দিলেন অটোচালক

রাস্তায় পরে থাকা একটি ভ্যানিটি ব্যাগে প্রায় ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার পেয়েও মালিককে ফিরিয়ে দিলেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মো. মহিউদ্দিন নামের এক অটোরিকশাচালক।
মহিউদ্দিন চরফ্যাশন উপজেলার

আছলামপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের খোদেজাবাগ গ্রামের (বর্তমান ওমরপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড) বাসিন্দা বৃহস্পতিবার রাতে আছলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম সিরাজুল ইসলামের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে স্বর্ণালংকারের মালিক আয়েশা

বেগমের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এ সময় আয়েশা বেগম অটোরিকশার চালক মহিউদ্দিনের হাতে সততার পুরস্কার হিসেবে নগদ ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন বুধবার বিকালে আয়েশা বেগম স্বামীর বাড়ি লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ থেকে

অটোরিকশাযোগে বাবার বাড়ি চরফ্যাশন উপজেলার শশিভূষণ এলাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় আছলামপুর ইউনিয়নের ভুঁইয়ার হাটের দক্ষিণ পাশে আসলে সাত ভরি স্বর্ণালংকার, মোবাইল ও দামি মালামালসহ সঙ্গে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগটি বোরাক থেকে নিজের অজান্তেই রাস্তায় পরে যায়। সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়

অটোরিকশা চালক মো. মহিউদ্দিন ব্যাগটি রাস্তায় পরে থাকতে দেখে তুলে নিজের কাছে রেখে দেয়। পরে ব্যাগের মালিক ব্যাগটি অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ওই এলাকায় মাইকিং করে ব্যাগের সন্ধান দাতাকে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ অবস্থায় রাত ১০টার দিকে মহিউদ্দিন ব্যাগের মধ্যে

স্বর্ণালংকারসহ দামি মালামাল থাকা সত্ত্বেও ব্যাগটি স্থানীয় চেয়ারম্যান এ কে এম সিরাজুল ইসলামের কাছে জমা দেন।
চেয়ারম্যান বিষয়টি রমাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে জানালে সে লোক পাঠিয়ে ব্যাগের মালিক আয়েশা বেগমকে ব্যাগের সন্ধান নিশ্চিত করেন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে এসে আয়েশা বেগম

আছলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে ব্যাগটি বুঝে নেয়। খুশি হয়ে অটোরিকশার চালক মহিউদ্দিনকে নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরষ্কার প্রদান করেন। আছলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একে এম সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মহিউদ্দিন বুধবার রাতে আমার কাছে নিয়ে আসলে আমি মাইকিংয়ের বিষয়টি

অবগত হয়ে আয়েশা বেগমের ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। পরে তার মাধ্যমে আয়েশা বেগম বিষয়টি জানতে পেরে আমার কাছে এসে উপযুক্ত প্রমাণ দেখায়। পরে ব্যাগটি তার এটা নিশ্চিত হওয়ার পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে আয়েশা বেগমের কাছে ব্যাগে থাকা মালামালসহ ব্যাগটি হস্তান্তর করি।

আয়েশা মহিউদ্দিনের সততায় খুশি হয়ে সবার সামনে মহিউদ্দিনকে নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরষ্কার প্রদান করেন। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে মহিউদ্দিনের মতো সৎ লোক থাকার কারণে পৃথিবী এখনও টিকে আছে। ব্যাগের ভিতরে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল থাকার পরও মহিউদ্দিন ব্যাগটি ফিরিয়ে দিয়েছে

এটা সত্যিই প্রশংসনীয় কাজ। মহিউদ্দিনের মতো সৎ লোক আমার এলাকার বাসিন্দা এটি নিয়ে আমি গর্বিত। স্বর্ণালংকারসহ নিজের ব্যাগ বুঝে পেয়ে আয়েশা বেগম বলেন, মহিউদ্দিন ও চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের মতো ভালো লোকের কারণে কোনো প্রকার ঝামেলা ছাড়াই আমি আমার ব্যাগটি বুঝে পেয়েছি। এ জন্য আমি অনেক খুশি। মহিউদ্দিনের মতো লোকেরা হাজার বছর বেঁচে থাকুক আল্লাহ তায়ালার কাছে এই দোয়া করি।

About Gazi Mamun

Check Also

ব্যবসায়ী মেহেদি হাসানের দেওয়া একটি কাঠের ব্রীজে বদলে গেল গ্রামটির চিত্র

একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুই পাড়ের জনপদের যোগাযোগ অনেকটা বিচ্ছিন্ন। আর বর্ষা মৌসুমে তো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *