আমি আমার আল্লাহর ভালোবাসার জন্যই আর মিডিয়াতে কাজ করব না -এ্যানি খান

শিশুশিল্পী হিসেবে মিডিয়াতে কাজ শুরু করেছিলেন এ্যানি খান। সেই থেকে তার পথচলা শুরু। ২৩ বছর ধরে মিডিয়ার নানা মাধ্যমে কাজ করে পরিচিতি পাওয়া এ অভিনেত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আর নয় মিডিয়াতে!

গুটিয়ে নিচ্ছেন নিজেকে।
বললেন, ছোট থেকেই টিভিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করতাম। ২০১৫ সাল পর্যন্ত অভিনয়ে অনিয়মিত ছিলাম। তারপর থেকে এ পর্যন্ত টানা নাটকে কাজ করে মানুষের অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। তবে এবার একেবারেই মিডিয়ার কাজ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি।

সার্বক্ষণিক নামাজ ইবাদতে মগ্ন আছি। গতবছর থেকেই মনে হচ্ছিল মিডিয়া থেকে দূরে সরে যাবো। জানুয়ারির ২৬ তারিখ থেকে নিজের মধ্যে সিদ্ধান্তটা বেশি করে নাড়া দিতে থাকে। মার্চের ১৯ তারিখ শেষবার শুটিং করেছি। তারপর তো করোনায় সবকিছু বন্ধ হলো। চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে মিডিয়া থেকে

দূরে সরে যাওয়ার বিষয় জানান এ্যানি খান। তিনি বলেন, কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মিডিয়া ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেইনি। এ সিদ্ধান্ত আমার একান্তই ব্যক্তিগত। কারণ মৃত্যুর পর আমার হিসেব আমাকেই দিতে হবে। তাই আত্মউপলব্ধি থেকেই আমি মিডিয়ার কাজ থেকে সরে যাচ্ছি। কী সেই উপলব্ধি, যে জন্য ২৩ বছরের

মিডিয়া ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চাইছেন? উত্তরে এ্যানি বলেন, আগেও বিভিন্ন কারণে মানুষ মা’রা যেত কিন্তু প্রতিনিয়ত অহরহ মৃ’ত্যুর খবরগুলো যেভাবে শুনছি আগে সেভাবে শোনা যেতো না; শুনলেও নাড়া দিত না। বাবাকে হারালাম, চোখের সামনে কাছের মানুষগুলো ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এগুলোর কারণে

রিয়ালাইজেশনগুলো এসেছে। আমি একজন মুসলিম। মুসলিম হিসেবে ধর্মীয় বিষয়গুলো যতোই জানার চেষ্টা করছি ততই ধর্ম বিষয়ক জ্ঞান বাড়ছে। এতে করে অনেককিছুতে বিধিনিষেধ চলে আসছে। তিনি বলেন, দু মিনিট পরে আমি বাঁচবো কিনা জানিনা। মৃত্যুর পরে অনন্ত কালের জন্য আমি কি সঞ্চয় করলাম?

এ সবকিছু চিন্তাভাবনা মিলিয়ে আমি আর মিডিয়ার কাজে ফিরতে চাইছি না। এজন্য কেউ আমাকে ভণ্ড বলতে পারেন, খারাপ বলতে পারেন। তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। আমার রিয়ালাইজেশনগুলো কেমন সেটা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।
এ্যানি খান বলেন, এই করোনাকালে দেখছি অনেকেই সময়

কাটছে না বা হতাশামূলক কথাবার্তা বলে যাচ্ছে। কিন্তু আমি নিজে কোনো সময়ই পাচ্ছিনা। জীবনে সময় এতো স্বল্প অনুভব করছি যে মনে হচ্ছে দিনরাত ৪৮ ঘণ্টা হলে ভালো হতো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছি, নফল নামাজ পড়ছি, কোরআন হাদিস পড়ছি। অনেককিছু থেকে পিছিয়ে ছিলাম। সবকিছু আমাকে শিখতে হচ্ছে। এসব জানতে শিখতে কখন যে সময় চলে যাচ্ছে নিজেও

বুঝতে পারছিনা। এ্যানি খান অভিনীত পাঁচটি সিরিয়াল বিভিন্ন টিভিতে প্রচার হচ্ছে। তিনি বললেন, করোনার মধ্যে আমি মোটেও কাজ করতে চাইনা। এমনিতেই সবকিছু থেকে গুটিয়ে আসতে আমার হয়তো একটু সময় লাগবে। তবে মন থেকে চাইছি আল্লাহ যেন আমাকে আর কাজে না ফেরান। ঘরে থাকবো, ইবাদত করবো। উনি চাইলে সবকিছুই সম্ভব। যোগ করে তিনি বলেন, ঢাকায় আমাদের নিজেদের থাকার একটা জায়গা আছে। বেঁচে

থাকলে আগামী বছর বিয়ে করে ফেলবো। একজন সাধারণ মেয়ে বিয়ের পর যেভাবে সংসার নিয়ে সার্ভাইভ করে আমিও তাই করতে চাই। মিডিয়া থেকে সরে গেলে আমার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো আর সামনে আনবো না। কথায় কথা এ্যানি খান জানালেন ফেসবুক নিয়ে তিক্ত কথা। বললেন, ১৯ সেপ্টেম্বরে আমার ফেসবুক হ্যাকড

হয়। ওই আইডি থেকে আমার পুরাতন ছবি আপলোড দেয়া হচ্ছে। আবোলতাবোল জিনিস পোস্ট দিচ্ছে, শেয়ার করছে। কিছু মানুষ এ নিয়ে আমাকে ভুল বুঝে যাচ্ছে। তারা মনে করছে, আমি এগুলো আপলোড দিচ্ছি। আসলে ওগুলো আমি করছিনা। মানুষ মাত্রই পরিবর্তনশীল। আমার মধ্যেও সবকিছু নিয়ে পরিবর্তন এসেছে। ধর্ম নিয়ে সারাক্ষণ চর্চা করে অন্যরকম এক শান্তি পাচ্ছি।

About Gazi Mamun

Check Also

১০ বছরে ২৫ প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছেন স্ত্রী, তবু অপেক্ষায় স্বামী!

প্রেমের মরা জলে ডোবে না। আবার ভালোবেসে মানুষ কত কিছুই না করে। কেউ প্রাণ বিসর্জন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *