দুই হাজার টাকায় শুরু, বছর না ঘুরতেই সামিহার আয় প্রায় ১৩ লাখ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে পড়াশোনা করছেন সামিহা আফরিন। পড়াশোনা প্রায় শেষ পর্যায়ে। সন্তান বড় বিদ্যাপীঠে পড়লে প্রত্যেক পরিবারই চায় পড়াশোনার ধাপ চুকিয়ে চাকরির বাজারে ভালো পজিশনে যাক৷

পরিবারের এমন আশার বাইরে গিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে চাকরির পেছনে না ছুটে পড়াশোনার পাশাপাশি সামিহা শুরু করেন ব্যবসা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে উদ্যোগ নিয়ে ব্যবসায় তার পথচলা শুরু হয়। এক বছর শেষ না হতেই দেখা মেলে বড় সাফল্যের।

মাত্র দুই হাজার টাকা মূলধন নিয়ে ব্যবসায় নেমেছিলেন। শুরুর প্রথম তিন মাসে লক্ষাধিক ও বছর না ঘুরতেই হোলসেল ও খুচরা বিক্রি মিলিয়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা আয় করেছেন। গত বছরের অক্টোবর থেকে নিজের হাতে তৈরি অর্গানিক হেয়ার অয়েলের হাত ধরে শুরু হয় তার ব্যবসার পথচলা। এরপর আর পিছু তাকাতে

হয়নি সামিহার এই ব্যবসায় লাভের একটি বড় অংশই চলে যায় নিজের ব্যবসাকে বড় করার বিনিয়োগে। তাছাড়া নিজের হাত খরচ, পরিবারকে মাঝে মাঝে উপহার দেয়া, মানুষদের হেল্প করা ইত্যাদি করেন তিনি। বিশেষ করে পরিবারের খরচে কিংবা পরিবারের যেকোনো প্রয়োজনে নিজের উপার্জিত টাকা দিতে

সহযোগিতা করতে পারছে এটাই যেন সামিহার কাছে স্বর্গসুখ। পরিবার শুরু থেকেই পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছে, উৎসাহ দিয়েছে। মেয়ে ব্যবসায় ভালো করছে অনেক খুশি তারা। যদিও শুরুতে পরিবার মনে করেছিল শখের বসে শুরু করেছে তাদের মেয়ে কিন্তু পরে যখন আমার পণ্য অনেক বিক্রি হতে শুরু করলো

তখন তারাও উৎসাহ দেয় সামিহাকে। ডেইলি বাংলাদেশকে নিজের সফলতার গল্প জানিয়ে সামিহা বলেন, ব্যবসা শুরু করা আসলে ততটা চ্যালেঞ্জিং ছিলো না আমার জন্য যতটা সাধারণত অন্যদের ক্ষেত্রে হয়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবসা শুরু করি। সেপ্টেম্বর মাস পুরোটাই আমি শিখেছি, সেপ্টেম্বর মাসে আমি কোনো সেল দেই নাই বিভিন্ন উদ্যোক্তা গ্রুপ থেকে একটু করে

দেখে-বুঝে শিখেছি। সেপ্টেম্বর মাস পুরোটা শেখার পরে অক্টোবর মাস থেকে আমি পণ্য বিক্রি শুরু করেছি ‘আলাদিনের প্রদীপ ডটকম’র মাধ্যমে। এরপরে অক্টোবর মাসেই আমার পণ্য সর্বাধিক বিক্রিত পণ্যের তালিকায় চলে আসে, যেটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। ‘Nature’s Secret’ নামের নিজের একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে কেমিক্যালযুক্ত পণ্য থেকে মুক্তি দিয়ে ভেজালহীন খাঁটি পণ্য মানুষের হাতে তুলে দিতে ‘অর্গানিক হেয়ার অয়েল’ দিয়ে শুরু করেন, যেটি পুরোপুরি তার নিজের বাসায়

তৈরি শতভাগ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি। নিজে তৈরি করে নিজেই প্যাকেজিং এবং সাপ্লাই করেন সামিহা। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করে পরিবার। হেয়ার অয়েলের পর নভেম্বরে নতুন পণ্য হিসেবে যোগ হয় খেজুরের গুড়। সেটিও বেশ সাড়া পায়। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে গ্রোসারি আইটেম নিয়ে কাজ শুরু করি তখন থেকে তার বিনিয়োগ, বিক্রি ও লাভ সবকিছুই বাড়তে থাকে। সামিহা আরো বলেন, বাংলাদেশে এত কার্যকর হেয়ার

অয়েল এতো কম প্রাইসে শুধু আমরাই সরবরাহ করছি। পণ্যের দাম সাধ্যমতো খুবই কম রেখে পণ্য সরবরাহ করি আমরা। আর পণ্যের মানের সঙ্গে আমরা কখনোই আপস করি না। সব পণ্যই মানসম্মত। এক্ষেত্রে ক্রেতার মতামত ও আগ্রহকে আমরা গুরুত্ব দেই।

About Gazi Mamun

Check Also

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেন বাংলাদেশি ডা. তাসনিম জারা

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সুপাইরভাইজার (আন্ডারগ্রাজুয়েট) হিসেবে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা গত সোমবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *