কাল থেকে বন্ধ হতে পারে অনলাইনে বিমান টিকিট বুকিং

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অনলাইনে টিকিট বু’কিং ব্যবস্থা আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ হতে পারে। অ্যামাজনের সা’র্ভার বিল পরিশো’ধ না করায় এ আশ’ঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। আগামীকালই অ্যামাজনের বিল

পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ। তবে গতকাল রোববার পর্যন্ত এ বিল সংক্রা’ন্ত জটিলতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। অনুস’ন্ধানে জানা যায়, বিমানের স্বয়ংসম্পূর্ণ ও অত্যাধুনিক অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থাকে পাশ কা’টিয়ে কাউন্টার থেকে

টিকিট বিক্রির পুরোনো ব্যবস্থা চালু রাখার সঙ্গে যু’ক্ত একটি চ’ক্রের কারসা’জিতেই অনেকটা পরিকল্পিতভাবেই অনলাইন ব্যবস্থাকে সাময়িকভাবে বন্ধের মতো জটি’লতার মুখে ঠে’লে দেওয়া হচ্ছে। একাধিক সূত্রের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০১৯ সালে দেশীয় তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানি ট্রাভেল শপ

লিমিটেডের সঙ্গে বিমানের অত্যাধুনিক অনলাইন টিকিট বু’কিং ব্যবস্থা চালুর চুক্তি হয়। চু’ক্তি অনুযায়ী কোম্পানিটি দুই মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি অনলাইন টিকিট বু’কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলে এবং ব্যয়ব’হুল পুরোনো ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করে। আগের ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি জ্যাপওয়েজকে

ব্যবস্থাপনার জন্য যেখানে মাসে প্রায় ২৩ লাখ টাকা পরিশো’ধ করতে হতো, সেখানে দেশীয় কোম্পানির তত্ত্বাবধানে এসে খরচের পরিমাণ ৯ লাখে নেমে আসে। একই সঙ্গে এই কোম্পানিকে অনলাইনের সার্ভার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিস থেকে সার্ভার ভাড়া নেয়। কিন্তু গত প্রায় দুই বছরে বিমান সার্ভারের ভাড়া বাবদ কোনো অর্থ

দেয়নি। সংশ্নি’ষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রাভেল শপই এই ভাড়া পরিশো’ধ করেছে। ট্রাভেল শপের চিফ অপারেটিং অফিসার এস এম মুক্তাদির সমকালকে বলেন, গত দুই বছরে সার্ভারের ভাড়া বা’বদ তারা প্রায় ৩৭ লাখ টাকা পরি’শোধ করেছে। এ টাকা পরিশোধের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বরাবর কমপক্ষে পাঁচবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চিঠির জবাব মেলেনি। তিনি বলেন, যেহেতু টিকিট বুকিং সংক্রান্ত

সব ডাটা বিমানের নিজস্ব সম্পদ এবং এ সম্পদ যে সার্ভারে রাখা হচ্ছে তার মূল্য চুক্তি অনুযায়ীই বিমানেরই পরিশোধ করার কথা। তারপরও ট্রাভেল শপ দেশীয় এয়ারলাইন্সের স্বার্থে এতদিন সার্ভার বিল পরিশোধ করেছে। কিন্তু ক’ভি’ড-১’৯ ম’হামা’রির কারণে গত দেড় বছরে ব্যবসায় ধস নেমেছে। এ কারণে ট্রাভেল শপের পক্ষে আর এ অতিরি’ক্ত ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়টিও বিমানকে জানানো হয়েছে। তারপরও বিমান কোনো

জবাবই দেয়নি। অ্যামাজনের বিল প’রিশো’ধের নির্ধারিত তারিখ আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ আগস্ট)। অ্যা’মাজনের পরিষেবা নীতি অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বিল পরিশো’ধ না করা হলে এটি বা’তিল বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে মঙ্গলবার থেকেই বিমানের অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, ব্যবস্থাপনা বাবদ যে বিল সেটিও ঠিকমতো প’রিশো’ধ করছে না বিমান। অনুস’ন্ধানে আরও দেখা যায়, ২০১৯ সালের আগে প্রায় দশ বছর ধরে বিমানের অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থা পরিচালনা করত জ্যাপওয়েজ নামে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে ব্যবস্থাপনা বাবদ প্রায় ২৩

লাখ টাকা এবং নতুন কোনো কিছু হালনাগাদ হলে আরও প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করা হতো। এই সংস্থাটি বিমানের টিকিট বিক্রি সং’ক্রা’ন্ত তথ্য এবং আর্থিক হিসাবও সঠিকভাবে রাখতে পারছিল না। এ কারণে ২০১৯ সালের মে মাসে জ্যাপওয়েজেরে সঙ্গে চু’ক্তি বা’তিল করে ট্রাভেল শপের সঙ্গে চু’ক্তি করে বিমান। ট্রাভেল শপ একেবারে হালনাগাদ প্রযুক্তিতে পুরো ব্যবস্থা প্রতিস্থাপন করে।
ফলে বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ মন্ত্রণালয় এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকরাও ড্যাশ বোর্ডের মাধ্যমে অনলাইনে প্রতিদিনের টিকিট বিক্রির হিসাব, বুকিং বাতিলের হিসাবসহ আয়-ব্যয়ের সম্পূর্ণ হিসাব দেখতে পান। এমনকি কোনো পাইলট

এয়ারপোর্টে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিল’ম্বে এলেও সেটাও এই ড্যাশ বোর্ড থেকে দেখা যায়। ফলে বিমানের টিকিট বুকিং এবং বিল’ম্বে ফ্লাইট পরিচালনা সংক্রা’ন্ত অনিয়মও প্রায় বন্ধ হয়। এক বছরের মধ্যেই বিমান ২৪০ কোটি টাকা লাভের মুখ দেখে। যেটা ছিল বিমানের ইতিহাসে প্রথম মুনাফা। এ সময়ে বিমানের ১ কোটি ১২ লাখ ৪২৭টি টিকিট বিক্রি হয়েছে যার মূল্য প্রায় ১২৫ কোটি টাকা। এ সময়ে দেশীয় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা বিলের পরিমাণ প্রায় ৯০ লাখ টাকা। যেখানে একই সময়ে বিদেশি কোম্পানি ব্যবস্থাপনায় থাকার সময়ে বিল আসত চার কোটি টাকার বেশি। এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আবু

সালেহ মোস্তাফা কামাল সমকালকে বলেন, অ্যামাজনের সার্ভা’রের বিল পরিশো’ধ সং’ক্রা’ন্ত তথ্যটি আমার কাছেও আছে। অনলাইন টিকিট বুকিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ট্রা’ভেল শপ নিয়ে এর আগে কিছু নিউজ এসেছে, সে বিষয়ে তদ’ন্ত হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের ব্যাপারে কিছু কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে এবং এ কারণে তারা আজকের অবস্থানে আসতে পারে, কিছু বলতেই পারে। যে পক্ষ নিজেকে ক্ষ’তিগ্র’স্ত মনে করবে, সে পক্ষ তার কথা বলবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। বিমানও তার নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে। তবে বিমানের অনলাইন টিকিট বু’কিং ব্যবস্থা নিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি ইতোপূর্বে হয়নি। এ অবস্থায় যেটা করণীয় সেটাই করা হবে।

About Gazi Mamun

Check Also

গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতের ৯ নেতাকর্মী আটক

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলটির ৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *