আর ময়দার গোলা খেতে হবে না সাফিয়া-মারিয়াকে, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি

অবশেষে হাসি ফুটেছে যমজ শিশু সাফিয়া ও মারিয়ার। এখন দুধ খেতে পারছে তারা। অভাবের তাড়নায় দুধ কিনতে না পেরে মা-বাবা গত ৫ মাস পানিতে চালের গুঁড়া মিশিয়ে আবার কখনও পানির সঙ্গে আটা কিংবা

ময়দা মিশিয়ে খেতে দিয়েছেন তাদের।
সাফিয়া ও মারিয়ার বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে। বাবা আনিসুর রহমান মোটরভ্যানচালক। মা স্বপ্না বেগম মানুষের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে সাফিয়া ও মারিয়ার মুখে খাবার তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন।

বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩ নম্বর বেডে রয়েছে ওই দুই যজম শিশু কন্যা। মানবিক এ ঘটনাটি নিয়ে “৫ মাস ধরে ময়দা গোলা পানি খায় যমজ শিশু” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর সাফিয়া ও মারিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন।শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসক

এস.এম মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে শিশু দুটিকে দেখতে যান জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো.আজহার আলী ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও গুঁড়ো দুধ তুলে দেয়া হয় দুই শিশুর মা-বাবার হাতে।এছাড়া পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে সেমাই, চিনি, ডাল,

চটপটি, বুট, লাইফবয় সাবান, মুড়ি, হুইল পাউডার, বাদাম ও নুডুলস দেয়া হয়েছে।সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, সংবাদটি প্রকাশের পর পরই ঘটনাটি জেলা প্রশাসক স্যারের দৃষ্টিতে আসে। তাৎক্ষণিক নির্দেশে হাসপাতালে গিয়ে শিশু সাফিয়া ও মারিয়ার চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রশাসন তাদের

চিকিৎসা সংক্রান্ত খোঁজখবর রাখবে।তাদের পরিবারের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুঁড়ো দুধ, নগদ অর্থ ও ঈদের শুভেচ্ছা সামগ্রী তুলে দেয়া হয়েছে। মানবিক ঘটনাটি তুলে ধরার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।সাফিয়া ও মারিয়ার মা স্বপ্না বেগম এখন আবেগে আপ্লুত। জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে কেঁদে ফেলেন তিনি। জানান বাচ্চাদের মুখে দুধ দিতে না পারা সেই কষ্টের কথা।

স্বপ্না বেগম বলেন, অভাবের তাড়নায় গত ৫ মাস বাচ্চাদের মুখে দুধ দিতে পারিনি। চালের গুড়া, আটা, ময়দা পানিতে মিশিয়ে খাইয়েছি। এখন অনেকেই খোঁজ নিচ্ছেন। দুধ কিনে দিচ্ছেন।প্রয়োজনীয় সব কিছু দিচ্ছে। এমন হবে আজ সকালেও আমি জানতাম না। বেলা ১২টা পর্যন্তও খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিল বাচ্চারা। ওদের বাবা কখন সুজি কিনে আনবে। সেটি আমি খাওয়াবে। এরই মধ্যে সবকিছু বদলে গেল। আমি এখন খুব খুশি। আমার কিছু চাওয়ার নেই। বাচ্চারা ভালো থাকলেই আমি ভালো

থাকবো। যারা খোঁজখবর নিচ্ছেন, সহযোগিতা করছেন সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে শিশু দুটির চিকিৎসা করছেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. অসীম কুমার।তিনি বলেন, শিশু দুটো জন্মের পর থেকে ভালো দুধ বা পুষ্টিকর কোনো খাবার না পাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রোটিন কমে গেছে তাদের।

আমিষজাতীয় কোনো খাবার দুই শিশু পায়নি। তিনি বলেন, এখন প্রধান কাজ হচ্ছে শিশু দুটিকে ভালো খাবার দেয়া। ভালো খাবার খেয়ে যদি শরীরে প্রোটিন ফিরে পায় তবে সুস্থ হয়ে যাবে।পরিবার অভাবি জেনে আমি ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করেছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফ্রিতে করার ব্যবস্থা করেছি।

About Gazi Mamun

Check Also

এবার থেকে গ্যাস সিলিন্ডারে বুকিং এ মিলবে ৩০০ টাকা, বিশেষ প্রকল্পের সুবিধা আনলো দেশ!

কোরোনা আ-বহে রীতি-মতো দেশের অগ্র-গতি থমকে দাঁড়িয়েছে। দেশ যে উন্নতির শিখরে পৌঁছে ছিল সেই উন্নতির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *