আফগানিস্তান থেকে ফিরে ভারতীয় যুবকের ‘তালেবান স্তুতি’ ভারতীয় মিডিয়া যে ধারণা দিচ্ছে তার একেবারেই বিপরীত…

তালেবান নিয়ে গোটা বিশ্বেই কমবেশি নেতিবাচক ধারণা, প্রচারণা আর উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। দুই দশক আগে আফগানিস্তানে তাদের কট্টর শাসন ব্যবস্থাই হয়তো এমন ধারণা আর উদ্বেগের কারণ। তবে সেই প্রচলিত

ধারণায় সজোরে আঘাত করেছেন কলকাতার যুবক তমাল ভট্টাচার্য। আফগানিস্তান থেকে ফিরে তালেবানের ভূয়সী প্রশংসা করলেন তিনি। কাবুলের একটি আন্তর্জাতিক স্কুলে শিক্ষকতা করতেন তমাল ভট্টাচার্য। গত ১৫ আগস্ট পুরো দেশ যখন

তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তীব্র দুশ্চিন্তা চেপে বসে কলকাতায় থাকা তমালের পরিবারের মধ্যে। একদিকে ভারতীয় অন্যদিকে হিন্দু ছেলে, তাই তালেবান তার ওপর আক্রোশ দেখাবে, এমনটাই ধারণা ছিল সবার। কিন্তু তমাল ফিরে এসে

দিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য।
কলকাতায় পা দিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়া গণমাধ্যমের সামনে তমাল বললেন, আমরা বাইরে থেকে তালেবানের ব্যাপারে যা জানি-শুনি, তা সম্পূর্ণ ভুল মনে হয়েছে আমার কাছে। তালেবানরা আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত সুন্দর আচরণ করেছেন। আমাদের উদ্দেশে তারা

বলেছে, ‘তোমরা আমাদের মেহমান। তোমাদের নিরাপত্তার সব দায়িত্ব আমাদের।’ তারা আমাদেরকে খাইয়েছে, নিরাপত্তা দিয়েছে।
তমাল ভট্টাচার্য আরও বলেন, কাবুলে যুদ্ধের লেশমাত্র নেই। সামান্য কিছু গুলিটুলি যদি হয়ে থাকে তাহলে সেটা আমেরিকান

সেনারা করেছে। কোথাও কোনো তালেবানকে কারও ওপর আক্রমণ করতে দেখা যায়নি। এক ফোটা রক্ত না ঝরিয়েই তারা কাবুলে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তারা সবার উদ্দেশ্যে বারবার ঘোষণা করেছে, ‘আপনারা সবাই নিরাপদ, কেউ ভয় পাবেন না।’ কলকাতার ছেলে তমাল আরও বলছেন,

শুধু ভরসা দিয়েই বসে থাকেনি তালেবান, বিদেশিদের মেহমান আখ্যা দিয়ে রাত্রিবেলা পাহারা দিয়েছে। আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা যেসব নারী শিক্ষকরা ছিলেন, তাদেরকে বিন্দুমাত্রও অসম্মান করেননি বরং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিয়েছেন। খাবার দিয়েছেন এবং অন্যান্য সবরকম সহযোগিতা করেছেন।

About Gazi Mamun

Check Also

আমি মরিনি, ভালো আছি: ভিডিও বার্তায় বারাদার

পাকিস্তানের সীমান্তে মিত্র হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংঘর্ষে তালেবানের শীর্ষ নেতা ও আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত উপ প্রধানমন্ত্রী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *