আমাকে বিমানবন্দর থানায় নিয়ে আটকে রাখা হয়: রুমিন ফারহানা

আদালতের রায় থাকার পরও দেশের বাইরে যাওয়ার সময় এবং দেশে প্রবেশের সময় বিমানবন্দরে ‘বীভৎস হেনস্তার’ শিকার হন বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

এর মধ্য দিয়ে নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগকে অগ্রাহ্য করছে বলেও অভিযোগ তার। জবাবে রুমিন ফারহানার পয়েন্টটি নোট করা হয়েছে বলে জানান জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী। সংসদে শনিবার (০৪ সেপ্টেম্বর) চলমান অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিমানবন্দরে হেনস্তা হওয়ার বিষয় তুলে ধরে

বক্তব্য রাখেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘আমার দুর্ভাগ্য গত ৭-৮ বছর ধরে যতবার আমি দেশের বাইরে যাবার চেষ্টা করেছি, আমার ভ্যালিড পাসপোর্ট, টিকিট সবকিছু থাকা সত্ত্বেও আমাকে বাইরে যেতে দেয়া হয়নি। যদিওবা আমি দু-একবার যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, আমাকে যাওয়ার আগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা

বিমানবন্দর থানায় আটকে রাখা হয়েছে। আমার পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ‘আড়াই-তিন ঘণ্টা পর তারা ফিরে আসে, যদি ফ্লাইটের সময় থাকে আমি যেতে পেরেছি, না হলে আমি যেতে পারি নাই। এমনকি বাংলাদেশে ফেরার সময় একই ধরনের হেনস্তার শিকার ৭-৮ বছর ধরে হচ্ছি।’ এ সময় সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদের কথা তুলে ধরে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক

সম্পাদক বলেন, ‘সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬ অনুযায়ী জনস্বার্থ ছাড়া, আইনের দ্বারা এবং যুক্তিসংগত কোনো বাধানিষেধ না থাকে তাহলে বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে দেশের ভেতর চলাচল, দেশ থেকে বাইরে যাওয়া কিংবা আবার দেশে পুনঃপ্রবেশের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র কোনো রকমের বাধা, কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না।’ বিমানবন্দরে হেনস্তা থেকে রক্ষা পেতে ২০১৭ সালে

সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট করেন বলে জানান রুমিন ফারহানা। বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার ভাষায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, এই নাগরিককে দেশের বাইরে এবং দেশে প্রবেশের সময় কোনো রকমের বাধা দেয়া যাবে না, কোনো রকমের অবস্ট্রাকশন তৈরি করা যাবে না। তাকে কোনো রকমের হ্যারাস করা যাবে না।’ আদালতের এমন নির্দেশনা থাকার পরেও

বিমানবন্দরে কেন হয়রানির শিকার হতে হয় এই প্রশ্ন রেখে রুমিন বলেন, ‘আনফরচুনেটলি এই নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আজ অবধি, এখনও যদি আমি বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করি, আমাকে একইভাবে সেই বিমানবন্দর থানায় আটকে রাখা হয়। কার নির্দেশে, কোন অধিদপ্তরের কারণে, কী কারণে- কোনো রকম কারণ আমাকে কখনও দেখানো হয়নি। এখনও আমাকে কারণ দেখানো হয় না।’

রুমিন অভিযোগ করেন, যেখানে দেশ থেকে বড় বড় অপরাধীরা বিমান বন্দর দিয়ে পালিয়ে যায়, তখন পুলিশ দেখে না। কিন্তু একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যকে তারা হেনস্তা করে! সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের লাল পাসপোর্টটি সংসদে উচিয়ে ধরে রুমিন আরও বলেন, এ পাসপোর্টের কল্যানে বিশ্বের অনেক দেশের বিমান বন্দরে যেখানে তিনি সম্মান পান, সেখানে নিজ দেশের বিমান বন্দরে হেনস্তা করা হয়। তিনি সংসদে এ অবস্থার প্রতিকার দাবি করেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অভিযোগটি নোট করা হয়েছে বলে তাকে আশ্বস্ত করেন।

এর আগে শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংসদে পুলিশের আইজি ও বোট ক্লাব নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের দেয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান হুইপ আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন। তবে বিষয়টি আমলে না নিয়ে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন মূলতবি ঘোষণা করেছেন স্পিকার।

About Gazi Mamun

Check Also

দেশে এখন ভিক্ষা নেওয়ার মতো মানুষ নেই: মতিয়া চৌধুরী

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, মানুষ এখন আর ভিক্ষা নিতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *