কেরানীগঞ্জে ইউটার্ন মরণকূপে পরিণত!

ব্যস্ততম সড়কে প্রতি মিনিটেই যাওয়া ও আসা করে বিভিন্ন যানবাহন। কিন্তু সড়কই যখন মরণফাঁদ হয় তখন চালক, যাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এমনকি যেকোনো সময় দুর্ঘটনার চিন্তা মাথায় নিয়ে

ওই সড়কে চলতে হয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া থেকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের মাঝখানে ডিভাইডারের ফাঁকে ফাঁকে ৮টি ইউটার্ন রয়েছে। সড়কের অবস্থিত প্রত্যেকটি ইউটার্ন পয়েন্ট ঝুঁকিকপূর্ণ। এসব ইউটার্ন দিয়ে

প্রতিদিন ছোট বড় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। এতে দিনের বেলায় কম হলেও রাতে সড়কটি মরণকূপে পরিণত। আর নতুন চালকদের জন্য দিনের বেলাও সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ। সরেজমিনে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ঘুরে দেখা গেছে,

কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া থেকে নাজিরাবাগ এলাকা পর্যন্ত ৮টি ইউটার্নের মধ্যে হিজলতলা বাজার ও মাঠের কোনার দু‘টি ইউটার্ন বেশি ব্যবহার করে গাড়িগুলো। ইউটার্নগুলোতে কোন নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় কোনো রকমের নিয়ম শৃঙ্খলা না মেনে জীবনের ঝুঁকি

নিয়ে যানবাহনগুলো সড়ক ক্রসিং করে তড়িঘড়ি করে পার হতে দেখা গেছে। তাছাড়া রাস্তার ওপর ইউটার্নগুলোতে আটোরিকশা-ভ্যান পাকিং করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ইউটার্ন নিয়ে উল্টো পথে গাড়ি চলাচলে ফলে এখানে প্রতিনিয়ত ছোট বড়

দুর্ঘটনা ঘটে, বিশেষ করে ইজিবাইক ও অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচলের কারণেই বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার শিকার বেশিরভাগই বাইকচালক। জুলহাস নামে একজন সিএনজি চালক বলেন, ঝিলমিল আবাসিক এলাকার কাছাকাছি ইউটার্নে আসলে ফ্লাইওভারে উঠার জন্য এবং বিপরীত দিক থেকে ফ্লাইওভার থেকে নামার জন্য গাড়িগুলো গতি বাড়িয়ে দেয়। ইউটার্নে ৩/৪ দিক

থেকে গাড়ি মুখোমুখি হয়ে যায়। এভাবেই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পাড় হচ্ছে হাজার হাজার গাড়ি। অন্যদিকে কদমতলি গোলচত্ত্বর থেকে বাবুবাজার সেতুর প্রবেশ মুখ ও কদমতলি থেকে জনি টাওয়ার এলাকার ইউটার্নগুলোও মানা হচ্ছে না সঠিক ব্যবহার। এসব এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ থাকা সত্ত্বেও সঠিক ইউটার্ন ব্যবহার করছে না যানবাহনগুলো, যে যেভাবে পাড়ে সেভাবেই এক সড়ক থেকে অন্য সড়কে চলে যায়। অনেক সময় এক পাশের সড়কে ট্রাফিক

সিগন্যাল দিলে উল্টো সড়কে গাড়িগুলো চলে আসে। ঢাকা জেলা ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের ইন্সেপেক্টর পিযূষ কুমার মালো জানান, এ বিষয় আমরা ইউটার্ন সঠিক ব্যবহার না করা ও সড়কে উল্টো পথে চলাচলকারী যানবাহনগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। এদিকে ইউটার্নগুলোতে বেশি ঝুঁকিতে ফেলে ইজিবাইক ও আটোরিকশা চালকরা কিন্তু ডাম্পিং না থাকায় বেপরোয়া ইজিবাইক ও আটোরিকশা বন্ধের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারছেনা বলে জানান তিনি।

About Gazi Mamun

Check Also

পদ্মা সেতু এলাকায় পাগলের ছদ্মবেশে থাকা সন্দেহজনক ১৬ ভারতীয় গ্রেপ্তার

পদ্মা সেতু এলাকা থেকে গত সাড়ে চার বছরে ১৬ ভারতীয় নাগরিককে গ্রে’প্তা’র করা হয়েছে। সন্দে’হজনকভাবে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *