Home / শিক্ষাঈন / কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু: ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থী ব‌হিষ্কার

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু: ছাত্রলীগ নেতাসহ ৯ শিক্ষার্থী ব‌হিষ্কার

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় ৯ ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে বহিষ্কার হওয়া ছাত্রদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ

সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান আছেন। কুয়েটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মনোজ কুমার মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়।

ফুটেজ দেখে শিক্ষকের সঙ্গে ওই ৯ ছাত্রের অসদাচরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তারা হলেন সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী সাদমান নাহিয়ান সেজান, সিই বিভাগের শিক্ষার্থী তাহামিদুল হক ইশরাক, এলই বিভাগের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব, এলই বিভাগের শিক্ষার্থী আ স ম রাগিব আহসান মুন্না,

সিই বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান, এমই বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান, সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী রিয়াজ খান নিলয়, এমই বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ রিফাত ও এমএসই বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান অন্তু। প্রসঙ্গত, গত ৩০ নভেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

ড. সেলিম হোসেনের সঙ্গে ছাত্রলীগের কয়েকজন খারাপ ব্যবহার করেন। এমনকি তাকে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। পরে বাসায় ফিরে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার। কুয়েটের ছাত্র ও শিক্ষকরা জানান, কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাদের

মনোনীত ছাত্রকে লালন শাহ হলের ডিসেম্বর মাসের ডাইনিং ম্যানেজার করার জন্য প্রভোস্ট ড. সেলিমকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার দুপুরে তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ছাত্র ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা করা শুরু করেন। পরবর্তীতে তারা শিক্ষককে

অনুসরণ করে তড়িৎ কৌশল ভবনে তার কক্ষে প্রবেশ করে আবারও চাপ প্রয়োগ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স ও ইলেট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে বের হচ্ছিলেন অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেন। রাস্তায় কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক

সাদমান নাহিয়ান সিজানের নেতৃত্বে কয়েক শিক্ষার্থী তার পথরোধ করে বিভাগের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে বাগবিতণ্ডা হয়।
পরে বাসায় ফিরে বুকে ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনকে কুয়েট মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এদিকে অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুতে

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর শুক্রবার কুয়েট বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়। অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যু তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

অন্য দুই সদস্য ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আতাউর রহমান এবং ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক কল্যাণ কুমার হালদার। তবে আরিফুল ইসলাম ও কল্যাণ কুমার কমিটি থেকে পদত্যাগ করার পর নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

About Gazi

Check Also

বাবা অসুস্থ, সংসার চালাতে ফুচকা বিক্রি করছে নবম শ্রেণির ছাত্রী

পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অনেকদিন থেকে ফুচকা বিক্রি করেন কপিল দেব শাহ। সেখানে প্রায় সবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *