Home / আন্তর্জাতিক / প্রকাশ্য স্থানে নামাজ আদায় করা যাবে না

প্রকাশ্য স্থানে নামাজ আদায় করা যাবে না

প্রকাশ্যে খোলা জায়গায় আর নামাজ আদায় করা যাবে না বলে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ভারতের হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার। প্রকাশ্য স্থানে নামাজ নিয়ে রাজ্যের গুরুগ্রামে সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতার

পরিপ্রেক্ষিতে খাট্টার বলেন, ‘মুসলিমদের খোলা জায়গায় শুক্রবারের নামাজ উচিত নয়।’
বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজ্য পুলিশকে নির্দেশও দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল

হরিয়ানার মুসলিমরা। যার অধীনে গুরুগ্রামের ৩৭টি প্রকাশ্যে স্থান নামাজের জন্য চিহ্নিত ছিল। কিন্তু স¤প্রতি সেই চুক্তি এখন প্রত্যাহার করেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশিকায় জানিয়ে দেওয়া হয়, বাকি ২৯টি স্থান নিয়ে যদি কোনও আপত্তি ওঠে, সে ক্ষেত্রেও

অনুমতি বাতিল করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এ বিবৃতির ফলে এখন নতুন করে দুই স¤প্রদায়ের মাঝে উত্তেজনাপূর্ণ দ্ব›েদ্বর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলো মুসলমানদের বারবার হয়রানি এবং ভয় দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পরে গুরগাঁও শহরে হিন্দু দলগুলো জুমা নামাজ ব্যাহত করছে এবং মুসলমানদের খোলা জায়গায় নামাজ পড়া থেকে

বিরত রাখতে কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। খাট্টার বলেছেন যে, সরকার পুলিশ এবং জেলা প্রশাসককে জানিয়েছিল যে,

সমস্যাটি সমাধান করা দরকার। মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলেছে, ‘এটি সমাধান করার জন্য প্রত্যেকে তাদের নিজের জায়গায় প্রার্থনা করে। কেউ নামাজ পড়ে, কেউ তেলাওয়াত করে, কেউ পূজা (উপাসনা) করে – এতে আমাদের কোন সমস্যা নেই, এবং ধর্মীয় স্থানগুলি শুধুমাত্র এই উদ্দেশ্যে

তৈরি করা হয়েছে যাতে সেখানে প্রার্থনা করা হয়। এ ধরনের প্রথা খোলামেলা হওয়া উচিত নয়। এখানে খোলা জায়গায় নামাজ পড়ার এই প্রথা বরদাশত করা হবে না ‘তারা (মুসলিমরা) বলেছে যে, তাদের বেশ কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে তাদের

[প্রার্থনা করার] অনুমতি দেয়া উচিত। তাদের কিছু সম্পত্তি বা ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে থাকা সম্পত্তি বেদখল করা হয়েছে, কিভাবে সেগুলো ফেরৎ পাওয়া যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। অথবা তারা তাদের বাড়িতে নামাজ পড়তে পারে। খোলা জায়গায় নামাজ পড়া এবং এই দ্ব›দ্ব, আমরা এ সংঘর্ষ চলতে দেব না’ -খট্টর বলেছেন বলে জানায় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে, গুরগাঁওয়ের স্থানীয়রা এবং হিন্দুত্বপন্থী গোষ্ঠীর সদস্যরা ৩৭ নম্বর সেক্টরের একটি এলাকা দখল করে নেয়, যেটিকে নামাজের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। বুধবার হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ভারতীয় প্রতিরক্ষাপ্রধান বিপিন রাওয়াতের মৃত্যুতে শোক জানাতে তারা একটি ‘শোকসভা’

করেছে। গোষ্ঠীটি সেখানে ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলে সেøাগান দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের ২৯ ও ৪৪ নম্বর সেক্টরের নির্ধারিত স্থানেও প্রার্থনা ব্যাহত হয়েছে।
জুমার জামাতে বাধা দেওয়ার জন্য অক্টোবরে গুরগাঁওয়ে হিন্দু ডানপন্থী গোষ্ঠীর কয়েক ডজন লোককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় ও হিন্দু গোষ্ঠীর জনতা স্লোগান দেওয়ার কারণে পুলিশ কয়েকশ’ অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করেছে এবং কমপক্ষে ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
সমালোচকরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দু-জাতীয়তাবাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)কে ভারতের ২০ কোটি শক্তিশালী মুসলিম জনসংখ্যাসহ সংখ্যালঘুদের নিপীড়নের জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

মোদির সরকার হিন্দু এজেন্ডা থাকা প্রত্যাখ্যান করে এবং দাবি করে যে, সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। বিজেপি শাসিত হরিয়ানা রাজ্যের রাজধানী হচ্ছে গুরগাঁও। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে কৃষিবিলের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী চাষিদের লাঠিপেটা করার ‘পরামর্শ’ দিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন খাট্টার।

সূত্র : ডন অনলাইন, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এনডিটিভি।

About Gazi

Check Also

হঠাৎ তীব্র বালুঝড়: সৌদিতে পপ কনসার্ট বাতিল

তীব্র বালুঝড়ে কারণে সৌদি আর’বের রাজধা’নী বিয়া’দে একটি পপ কনসা’র্টের আয়ো’জন বা’তিল করা হয়েছে। শুক্রবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *