Home / মানবতা / হাতের সঙ্গে কলম বেঁধে বিনামূল্যে গরিবের চিকিৎসা দেন জব্বার

হাতের সঙ্গে কলম বেঁধে বিনামূল্যে গরিবের চিকিৎসা দেন জব্বার

দুই হাত নেই। নেই পা দুটিও। তবে এই প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি জব্বার হাওলাদারকে। পঙ্গু’ হাতে কলম বেঁধে চিকিৎসা’পত্র লেখেন। পল্লী চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি একজন ওষুধের ফার্মেসি ব্যবসায়ী।

গরিবের চিকিৎসা দেন বিনামূল্যে। এভাবেই এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলছে জব্বারের জীবনযু’দ্ধ। ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের কররা গ্রামের বাসি’ন্দা জব্বার হাওলাদার। বাবা ময়েজ হাওলাদের ৪ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে

জব্বার সবার বড়। স্থানীয় শিমুল বাজারে তার হাওলাদার ফার্মেসি ও রোগী দেখার চেম্বার। তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এখন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। পঙ্গু’ জীবনে পথচলার একমাত্র সাহায্যকারী জব্বার হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম। চলাচল, নাওয়া-খাওয়া ও

দৈনন্দিন কাজ থেকে শুরু করে সংসার চালানো, স্বামীকে সাহায্য করা, ওষুধের ব্যবসা, রোগীদের প্রেসার মাপাসহ সবই সমানতালে সামাল দেন স্ত্রী হেলেনা বেগম।
জব্বার হাওলাদারের বর্তমান বয়স প্রায় ৫৬ বছর। অভাব অনটন আর শারীরিক অ’সুস্থতার কারণে বেশি লেখাপড়া করা হয়নি।

১৯৮৫ সালে এসএসসি পাস করেন। ১৬ বছর বয়সে বাম পায়ের বৃ’দ্ধ আঙুলে হঠাৎ ঘাঁ দেখা দেয়। সেই থেকে শুরু। গ্যাং’রিন আ’ক্রা’ন্ত হয়ে প্রথমে কা’টা পড়ে আঙুলটি। এরপর হাঁটু পর্যন্ত এক পা, এক হাত। একে একে দুই হাত আর দুই পা-ই কে’টে ফেলতে হয়। এভাবে প্রায় ২৩ বার তার শরীরে অ’স্ত্রোপচার

করতে হয়েছে। তিনি ঢাকার মিটফোর্ডে সাত মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় যাত্রাবাড়ীতে পল্লী চিকিৎসক কোর্চে ভর্তি হয়ে এলএমএফ পাস করেন। এলাকায় ফিরে এসে রোকন উদ্দিনের ফার্মেসিতে কাজের পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসকের প্র’শিক্ষণ নেন। এলএমএএফ ও ভিডিআরএমএফ (পল্লী চিকিৎসক কোর্চ)

কোর্চ সম্পন্ন করেন জব্বার হাওলাদার। এরপর তিনি রোকন উদ্দিনের পুরাতন ড্রা’গ লাইসেন্স কিনে নিয়ম অনুযায়ী তার নামে এফিডেভিট করে শুরু করেন ফার্মেসি ব্যবসা ও পল্লী চিকিৎসকের কাজ। এভাবে তিনি প্রায় একযুগ ধরে এ পেশায় আছেন। জব্বার হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, কেউ কেউ অদম্য সাহস নিয়ে দুর্বার গতিতে সামনে এগিয়ে চলে সব ধরনের বাধা-বিপত্তি

ডিঙিয়ে। একজনের জীবনে যত কালো অতীত কিংবা খুঁতই থাকুক না কেন, বাধা ডিঙিয়ে যারা চলতে থাকে তারা সফলতার দ্বারে পৌঁছাবেই।
তিনি বলেন, আমি কারো করুণা নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই না। সৃ’ষ্টিক’র্তা যেমন চেয়েছেন আমি তেমন আছি। এ নিয়ে আমা’র কোন দুঃখ-ক’ষ্ট নেই। তবে আমা’র জীবনযু’দ্ধের একমাত্র

সাহায্যকারী আমা’র স্ত্রী, যার সহযোগিতা ছাড়া এসব সম্ভব ‘হতো না। তিনি শুধুমাত্র একটি প্রতিব’ন্ধী ভাতা পান জানিয়ে আ’ক্ষেপ করে বলেন, প্রতিহিং’সার শি’কার হয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে প্রতিব’ন্ধী ভাতার অর্থও বঞ্চিত ছিলাম। এছাড়া সরকারি বেসরকারি কোনো ধরনের সুযোগ সুবিধা পাই না। জীবনের বাকিটা সময় মানুষের সেবা করে এভাবেই কা’টাতে চান অদম্য

জীবনযো’দ্ধা জব্বার হাওলাদার। জব্বার হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, প্রায় ৩০ বছর তার সঙ্গে সংসার করছি। শারীরিক অ’সুস্থতা জেনেই তার সঙ্গে বিয়ে হয়। তিনি একজন ভালো মানুষ। তাই সুখে-দুঃখে একসঙ্গে পথ চলছি।

About Gazi

Check Also

৯ কিমি রাস্তা সাইকেল চালিয়ে গিয়েছিলেন খাবার পৌঁছাতে, ডেলিভা’রি বয়কে বাইক কিনে উপহার দিলেন গ্রাহক

লকডাউন হোক কিংবা সাধারণ সময়, মানুষ আরাম করে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। কাজ থেকে ফিরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.