Home / আলোচিত বাংলাদেশ / বাধ্য হয়ে হৃদয়ে পাথর বেধে মা-বোনকে ছাড়াই স্বার্থপরের মতো লঞ্চের তিন তলা থেকে লাফিয়ে পরি

বাধ্য হয়ে হৃদয়ে পাথর বেধে মা-বোনকে ছাড়াই স্বার্থপরের মতো লঞ্চের তিন তলা থেকে লাফিয়ে পরি

‘ঢাকা থেকে এমভি অভিযান ১০ লঞ্চে করে বেতাগীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই আমি মা ও বোন। কেবিন না পেয়ে ডেকেই জায়গা করে নেই অন্য যাত্রীদের সঙ্গে। মধ্য রাতের দিকে ঘুমিয়ে পড়ি সবাই। হঠাৎ শরীর

উষ্ণ হয়ে ওঠে, ভেঙে যায় ঘুম। চারদিকে কালো ধোয়া যাত্রীদের ছোটাছুটি, মা ও বোনকে নিয়ে বিবেক হারিয়ে ফেলি। পায়ের জুতো পুড়ে যাচ্ছিল। ঠিক এমনটাই বর্ণনা দিচ্ছিলেন পুড়ে যাওয়া অভিযান-১০ লঞ্চের যাত্রী মো. রনি (১৬)। তিনি আরও বলেন,

কোথায় দাঁড়াবো! কি করবো। অসুস্থ মা ও ১৩ বছর বয়সের বোনকে নিয়ে লঞ্চের তিনতলার সামনে চলে যাই। এর মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পরে পুরো লঞ্চে। শুধু চিৎকার আর চিৎকার উপায় না পেয়ে মাকে বলি মা লাফ দেও। মা বলে বাবা এবার আর বাঁচবো

না দাবি ছেড়ে দিস, তোর বোন তো সাঁতার জানে না। তুই লাফ দে আমরা নৌকা আসলে উঠবো। যদি বেঁচে থাকি আবার দেখা হবে। কি করবো এদিকে দগ্ধ হতে শুরু করে পুরো শরীর সহ্য করতে পারছিলাম না। মো. রনি বলেন, হঠাৎ লোকজনের ধাক্কায়

মা ও বোনকে তিন তলায় খুঁজে পাচ্ছি না। বাধ্য হয়ে হৃদয়ে পাথর বেধে স্বার্থপরের লঞ্চের তিন তলা থেকে লাফিয়ে পরি মাঝ নদীতে। অনেকক্ষণ ভেসে থেকে এলাকাবাসী উদ্ধারে আসলে তাদের ট্রলারে উঠি। তবে মা ও বোনকে এখনো খুঁজে পাইনি।

মনে হয় আমার মা বোন আর নেই এই বলে চিৎকার দিয়ে ওঠে। রনি বর্তমানে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়াও লঞ্চে আগুন লাগার ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে বেতাগীতে এ পর্যন্ত

কাজিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা রিয়াজ হোসেন (২৮) নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৮জন। এরা হলেন- কাউনিয়া এলাকার সিকদার বাড়ির রিনা বেগম (৩৮), লিমা (১৪),

মোকামিয়া এলাকার আব্দুল হাকিম (৫৮) তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস (১৩), আরিফুর রহমান (৩৫), কুলসুম (৪), সেলিম (৪৮) ও সোবাহান খলিফা (৪০)

About Gazi

Check Also

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোট চলাকালে কেন্দ্রের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখার নির্দেশ

আগামীকাল রবিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ভোট চলাকালে কেন্দ্রের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *