Home / আলোচিত নিউজ / অন্ধ স্বামীকে বাঁচাতে নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলেন স্ত্রী

অন্ধ স্বামীকে বাঁচাতে নদীতে ধাক্কা দিয়ে ফেলেন স্ত্রী

ঝালকাঠিতে লঞ্চ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যুর খবর খাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আহত ও দগ্ধ হয়েছে শতাধিত। সেই লঞ্চ থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরাদের মধ্যে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ মাহমুদুর রহমান মিরাজ

লঞ্চ দুর্ঘটনার সেই মুহুর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমি অন্ধ, চোখে দেখি না। সেই রাতে আমার স্ত্রী আমাকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে না ফেলে দিত তাহলে আর বেঁচে ফেরা হতো না। ডাক্তার দেখাতে আব্বারে ঢাকাতে নিয়েছিলাম । বাড়ি ফেরার পথে মা, সন্তান,

স্ত্রী আর নিজে বেঁচে ফিরতে পেরেছি। এ দুঘর্টনাতে ফেরেননি আমার আব্বা বাব ইদ্রিস খান (৫১) মাহমুদুল হাসান জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) ঢাকার সদরঘাট থেকে অভিযান-১০ লঞ্চে উঠে নিচতলার ডেকে আমরা পাঁচজনে বিছানা বিছাই।

লঞ্চ ছাড়ার পর আমাদের গ্রামেরই আরেক পরিচিত এসে আব্বাকে দোতলায় নিয়ে যান। তিনি বলেন, আমি তো একা, আসেন খোশগল্প করতে করতে রাত পার করে দেই।এই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবক বলেন, আমি বারবার স্ত্রী ও মাকে বলছিলাম আব্বার সন্ধান

নিতে। লোকজনের মধ্যে চিৎকার করে ডেকেছিও। কিন্তু আগুনে হয়তো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, নয়তো ভিড় ঠেলে আসতে পারেনি। এখন এসেছি তাকে খুঁজতে। মাহমুদুর রহমান বলেন, সবাই তখন চিৎকার আর কান্নাকাটি করছিল। আমরা চারজন লঞ্চের সামনে

এক কিনারে ছিলাম। কী করব বুঝতে পারছিলাম না। তখন আমার স্ত্রী আমার মাকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেন। মা নদীতে পড়ে পায়ে মাটি পান। তিনি চিৎকার করে আমাদেরও ঝাপ দিতে বলেন। মায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে আমিও ঝাপ দিতে চাইছিলাম।

কিন্তু ঝাপ দিয়ে লঞ্চের মধ্যে মানুষের গায়ে পড়ছিলাম। তখন আমার স্ত্রী আমাকেও লঞ্চের কিনারে এনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং মেয়েকে নিয়ে নিজেও ঝাপ দেন। এরপর আমরা চারজনে সাঁতরে নদীর কিনারে উঠি। তিনি বলেন, এখন আসছি আব্বার

লাশটা অন্তত নিয়ে যেতে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের বরিশাল শেরে-ই- বাংলা মেডিকেলসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করানো হচ্ছে।

About Gazi

Check Also

নিহত এসআইয়ের গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া!

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় পুলিশের সদস্য বহনকারী একটি মাইক্রোবাস পুকুড়ে পড়ে দুই উপপরিদর্শক (এসআই) নিহত হওয়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *