Home / আজকের খবর / বাঘের মুখ থেকে মানুষ ছিনিয়ে আনেন টাইগার গণি

বাঘের মুখ থেকে মানুষ ছিনিয়ে আনেন টাইগার গণি

সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের কালিঞ্চি গ্রামে বাস আব্দুল গণি গাজীর। বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে। পেশায় বনজীবী। বর্তমানে সবাই তাকে চেনেন ‘টাইগার গণি’ নামে। জীবিকার

তাগিতে সুন্দরবনে যাওয়া জেলে বাওয়ালিদের কেউ বাঘের আ’ক্রমণের শিকার হয়ে নি’হত বা আ’হত হলে তাদেরকে বাঘের কাছ থেকে উ’দ্ধার করে আনেন টাইগার গণি। এজন্যই আব্দুল গণি গাজী এখন টাইগার গণি নামে পরিচিত। তবে এর জন্য

কোনো পারিশ্রমিক নেন না গণি। স্বেচ্ছাশ্রমেই কাজটি করেন তিনি। একটি বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত ওয়াইল্ড টিমের ফরেস্ট টাইগার রেসপনস টিমে চাকরি করতেন গণি। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত বাঘের মুখ থেকে অর্ধ-শতাধিক মানুষকে ফিরিয়ে

এনেছেন তিনি। টানা ১২ বছর ওয়াইল্ড টিমের সঙ্গে থেকে সুন্দরবনে কেউ বাঘের আ’ক্রমণের শিকার হলে আমি তাদের উ’দ্ধার করে আনি। এই দীর্ঘ সময়ে আমি ৭০টিরও বেশি মৃ’তদে’হ বাঘের কাছ থেকে উ’দ্ধার করে এনেছি। এছাড়া কয়েকজন আ’হত ব্যক্তিকে উ’দ্ধার করে চি’কিৎসকের কাছে

পৌঁছে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালে ওয়াইল্ড টিমের ফরেস্ট রেসপনস টিমের প্রোজেক্টের মেয়াদ শেষ হলেও আমার কাজ অব্যাহত রয়েছে। যখনই খবর আসে কোনো মানুষকে বাঘে ধরেছে আমি সঙ্গে সঙ্গে বনে ছুটে যাই। সবশেষ গত মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর)

বাঘের আ’ক্রমণে নি’হত বনজীবী মুজিবর রহমানের ম’রদে’হটিও আমি উ’দ্ধার করে এনেছি। তিনি বলেন, সোমবার বিকেলে মুজিবর রহমানকে সুন্দরবনের পায়রা টুনি খাল থেকে বাঘে ধরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রেসকিউ টিমের সঙ্গে আমিও বনে যাই। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বাঘের পায়ের ছাপ ও র’ক্তের দাগ

দেখে বনের গভীর থেকে মুজিবর রহমানের মৃ’তদে’হটি উ’দ্ধার করে আনি। এই অল্প সময়ে বাঘটি মৃ’তদে’হটির একটি পা পুরোটাই খেয়ে ফেলে। মৃ’তদে’হটি উ’দ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি, এটুকুই আমার তৃপ্তি। আব্দুল গণি গাজী বলেন, মা বাবা মা’রা গিয়েছেন। পরিবারে আমিসহ স্ত্রী, এক

ছেলে ও পাগল (মানসিক ভারসাম্যহীন) এক বোন রয়েছে। একটি মেয়ে তাকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। ছেলে গতবার এইচএসসি পাস করেছে। চাকরি যাওয়ার পর মাঝে মাঝে বনে মাছ ধরতে যেতাম। ছোট একটি ব্যবসাও শুরু করেছিলাম। তবে লোকসানে পড়ে বর্তমানে আমি বেকার রয়েছি। যদি কোনো সংস্থায় কাজের সুযোগ পাই, সেই অপেক্ষায় আছি। তবে বর্তমানে বাঘ নিয়ে সুন্দরবনে

কোনো প্রজেক্ট চলছে না। এ বিষয়ে সুন্দরবন সুরক্ষা কমিটি সাতক্ষীরার আহ্ববায়ক গাজী সালাউদ্দিন বাপ্পি বলেন, গণি খুব ভালো মানুষ, সুন্দরবনে কাউকে বাঘে ধরেছে শুনলেই স্বেচ্ছায় উ’দ্ধার কাজে অংশ নেন তিনি। স্থানীয়রা তাকে এই সাহসী কাজের জন্য শ্রদ্ধা করে। চাকরি না থাকায় বর্তমানে অর্থকষ্টে দিন কাটছে তার। এরপরও মানুষের বিপদে এগিয়ে আসেন তিনি।

সরকারিভাবে এই সাহসী মানুষটিকে সম্মানিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান তিনি। তবে কয়েকদিন আগে বাঘের আ’ক্রমণে নি’হত মুজিবরকে উ’দ্ধার অ’ভিযানে রেসকিউ টিমের সঙ্গে আব্দুল গণি স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসেছিলেন। সুন্দরবনে বর্তমানে ওয়াইল্ড টিমের কোনো কার্যক্রম নেই। তবে ভবিষ্যতে কোনো সুযোগ হলে টাইগার গণির জন্য কাজের ব্যবস্থা করা হবে।

About Gazi

Check Also

কক্সবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে পর্যটকরা, হোটেলে ৫০ শতাংশ রুম খালি

সাম্প্রতিক সময়ে পর্যটক নারী ও স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাসহ খাবারের দাম বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাবে কক্সবাজারে কাঙ্খিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *