Home / কৃষি নিউজ / “আলুর উৎপাদন খরচ ১০ ‘টাকা’ বিক্রি ৮ টাকা কেজি!

“আলুর উৎপাদন খরচ ১০ ‘টাকা’ বিক্রি ৮ টাকা কেজি!

ব’জা’রে যত আগে আলু উঠবে, লাভ তত বেশি। এ ধারণা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে দিন দিন আগাম আ’লু’র চাষ বাড়ছে। আগাম আলুতে প্রত্যাশিত ফলন পেলেও এবার বা’জা’রে কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না চাষিরা।

এতে আগাম আলু চাষিরা লোকসানের মুখে প’ড়ে’ছে’ন। ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নি’র্ধা’র’ণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০

হাজার ৫৪৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় আট হা’জা’র হেক্টর জমিতে চাষিরা স্বল্পমেয়াদি আগাম আলু আবাদ করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই সে’স’ব আলু তুলতে শুরু করেছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের সদর বালিয়াডাঙ্গী ও রানীশংকৈল উপজেলার কয়েকজন আলুচাষির সাথে কথা বলে জানা গেছে

বি’গ’ত মৌসুমে তারা খেত থেকেই প্রতি কেজি আগাম জাতের গ্যানুলা ও ডা’য়’ম’ন্ড আলু ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর এ বছর ওই আলু মাত্র ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাষিরা জানান এক বিঘা জমিতে আগাম আলু উৎ’পা’দ’ন করতে সাধারণত ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকা খরচ হয়।

গড়ে এক বিঘা জ’মি’তে ৭৫ মণ আলু উৎপাদন হয়। ওই হিসাবে প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ পড়ে ১০ টাকার কিছুটা বেশি। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পারিয়া গ্রা’মে’র আলুচাষি খসিয়র রহমান এবার চার বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেছিলেন।
আলু আ’বা’দে বীজ সার কীটনাশক সেচ হালচাষ মজুরি মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার টাকা। তিনি ক্ষেত থেকে

সেই আলু তু’লে’ছে’ন। খসিয়র রহমান বলেন আগাম আলুতে যেখানে খরচের দুই থেকে তিন গুণ লাভ থা’কা’র কথা এবার সেখানে লোকসান দিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার ৩১২ মণ আলু পেয়েছি। ক্ষেত থেকে ৮ টাকা দরে মোট ৯৯ হাজার ৮৪০ টাকার আলু বিক্রি ক’রে’ছি। রানীশংকৈল উপজেলার

ভবানন্দপুর গ্রামের কৃষক আকবর হোসেন বলেন আমি বরাবরই আগাম আলুর চাষ করে আসছি। আগাম আলু আ’বা’দে খরচ বেশি হলেও বাজার দরে তা পুষিয়ে যায়। কিন্তু এবার লোকসান হয়ে গেল। সদর উ’প’জে’লা’র আউলিয়াপুর গ্রামের চাষি শহিদুল হক বলেন আলু লাগাবার সময় বৃষ্টিত আমার জমির সব বীজ আলু পচে গেইছে। বিঘায় ৩৫ হা’জা’র টাকার ওপর খরচ হয়ে গেছে।

আর আলু বিক্রি করে পাছি ২৪ থেকে ২৫ হা’জা’র টাকা। লাভের আশাত আগাম আলু করে খালি লস আর লস। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হিমাগারগুলোতে গত মৌসুমের আ’লু’র মজুত শেষ হয়নি। তাই কৃষকেরা আগাম আলু বিক্রি করে নায্য মূল্য পাচ্ছেন না। ঠা’কু’র’গাঁ’ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর

কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরে নতুন আলু এত কম দামে বিক্রি হ’য়’নি। এর আগের বছরেও কৃষকেরা নতুন আলুতে ভালো দাম পেয়েছিলেন। বাজারে এখনো হি’মা’গা’রে রাখা গত মৌসুমের আলু বিক্রি হচ্ছে। তাই বাজারে নতুন আলুর চাহিদা কম।

About Gazi

Check Also

মুক্তা চাষে সফল মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম, বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ

বরগুনায় প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করে মুক্তা চাষে সফলতা পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *