Home / আলোচিত বাংলাদেশ / দেশে “পুরোদমে চলছে দেশের ‘দীর্ঘতম’ রেলসেতুর কাজ, ট্রেন চলবে ২০২৪ সালে!

দেশে “পুরোদমে চলছে দেশের ‘দীর্ঘতম’ রেলসেতুর কাজ, ট্রেন চলবে ২০২৪ সালে!

দ্রুতগতিতে এ’গি’য়ে চলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণকাজ। এরই মধ্যে প্রায় ৩৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এটি হবে দেশের দীর্ঘতম রে’ল’সে’তু। যথাসময়ে কাজ শেষ করা গেলে এ সেতু দিয়ে ট্রেন

চলাচল শুরু হবে ২০২৪ সালে। তখন উ’ত্ত’র ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে আরও গতি আসবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, স্টিল অবকাঠামোর এই সে’তু’তে ডাবল লাইন থাকবে। ট্রেন চলতে পারবে সর্বোচ্চ ১২০

কিলোমিটার গ’তি’তে। নির্মাণ শেষ হলে এটিই হবে দেশের দীর্ঘতম রেল সেতুর তকমা। যার দৈর্ঘ্য হবে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার। রাজধানীর সঙ্গে উ’ত্ত’র ও পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে বঙ্গবন্ধু সেতু। যমুনা ন’দী’র ওপর স্থাপিত বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে এসব অঞ্চলের যানবাহন চলাচল

করে। এর এক পাশে এক লাইনের একটি রেললাইন র’য়ে’ছে। এটি দিয়ে ঘণ্টায় মাত্র ২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলে। এতে সেতুর দুই পাশে অন্য ট্রেন অ’পে’ক্ষা করতে হয়। এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ে এই সড়ক সেতুর ৩০০ মিটার উজানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ ক’র’ছে। এটি টাঙ্গাইল ও

সিরাজগঞ্জকে যুক্ত করবে। নতুন সেতুটিতে ঘণ্টায় চলতে পা’র’বে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার বেগে। এর ওপর দিয়ে যে কোনো ওজনের মালবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেনও চলতে পারবে। এছাড়া একাধিক লোকোমোটিভ বা ই’ঞ্জি’ন দিয়ে ট্রেন চালানো যাবে। দেশের সবচেয়ে বড় এই রেলসেতুতে মোট পি’য়া’র (খুঁটি বা

পিলার) থাকবে ৫০টি। রেলসেতুর এসব পিয়ার হবে কংক্রিটের। উপরের সুপার স্ট্রাকচার হবে স্টিলের। পিয়ারের কাজ শেষ হ’লে’ই বিদেশ থেকে সুপার স্ট্রাক্চার এনে বসিয়ে দেওয়া হবে। গত নভেম্বরে এই সেতুর নির্মাণকাজের অ’গ্র’গ’তি প্রতিবেদন তৈরি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়,

রেলসেতুর ৫০টি পিয়ারের মধ্যে ডব্লিউডি-১ প্যাকেজের ১১টি পি’য়া’রে’র (৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯ ও ৫০) কাজ শেষ হয়েছে। ৩৬, ৩৮ এবং ৩৯ পিয়ার নম্বর পিয়ারের স্টিল পা’ই’প-শিল পাইপ (এসপিএসপি) ড্রাইভিং ও ৩৪ নম্বর পিয়ারের গাইড ফ্রেমের কাজ চলছে। ক্রেনের সাহায্যে

হ্যামার দিয়ে বসানো হচ্ছে পা’ই’লিং পাইপ। ২ নম্বর পিয়ারের গাইড ফ্রেমের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া গত ১৪ ডিসেম্বর সে’তু’র ৪৮ নম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বর ৪৬ নম্বর পিয়ারের টপ স্লাব কনসারটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্র’ক’ল্প সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর

এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয় এ’ক’নে’ক সভা। তখন এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। কিন্তু নানা কারণে তখন সেতু নির্মাণে জটিলতা তৈরি হয়। পরে গত ব’ছ’রে’র ৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম সংশোধিত প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত প্র’ক’ল্প ব্যয় ধরা হয় ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৫

লাখ টাকা। এর মধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অ’পা’রে’শ’ন বা জাইকার কাছ থেকে ঋণ হিসেবে পাবে বাংলাদেশ। বাকি অর্থ দেবে বাংলাদেশ স’র’কা’র। ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকল্পের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। রেলসেতুটির কাজ শেষ

ক’রা’র সময়সীমা ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্রুত চলমান এই প্রকল্পের ব্যয় ও স’ম’য়’সী’মা বাড়ানো লাগবে না। অনুমোদিত ব্যয় ও সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এছাড়া সেতুর দুই পাশে দ’শ’মি’ক ৫ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট, ৭ দশমিক ৬৬৭ কিলোমিটার রেলওয়ে অ্যা’প্রো’চ এমব্যাংকমেন্ট এবং লুপ ও সাইডিংসহ মোট ৩০

দশমিক ৭৩ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে। বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব ও বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম স্টে’শ’ন ভবন আধুনিকের পাশাপাশি ইয়ার্ড রিমডেলিং করা হবে। সেতুর এই দুই পাশের স্টেশনের সি’গ’ন্যা’ল ও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা করা হবে উন্নত। ওই সেতু এলাকায় নির্মিত হবে রেলওয়ে সেতু জাদুঘর। জানতে চাইলে প্র’ক’ল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন,

প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩৬ শতাংশ। আ’র্থি’ক অগ্রগতি ২৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। আশা করি, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, ব’র্ত’মা’নে বাংলাদেশের যে রেলসেতুগুলো রয়েছে তাতে আছে একটি করে লাইন। এই সেতুতে দুটি লাইন থাকবে। সেতু পার হ’ও’য়া’র জন্য কোনো ট্রেনকে অপেক্ষা করতে হবে না। সেতুতে একসঙ্গে দুটো ট্রেন

দুদিকে চলে যেতে পা’র’বে। সাধারণত মালবাহী ট্রেনগুলোকে প্রায়ই দুটি ইঞ্জিন দিয়ে টানতে হয়। বঙ্গবন্ধু সড়কসেতুতে যা সম্ভব হয় না। এ কারণেই যমুনা ন’দী’র ওপারে পার্বতীপুরের কারখানায় মেরামতের জন্য ইঞ্জিন নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। রেলসেতুটি নি’র্মা’ণ করা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

About Gazi

Check Also

“ট্রেনে কক্সবাজার ভ্রমণ, নির্মাণ’ করা হচ্ছে’ ৮টি স্টেশন! যাওয়া যাবে মাএ কয়এক ঘন্টার ভিতরে

সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে স’ব’চে’য়ে গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প। কর্ণফুলী টানেল, পদ্মা সেতু মে’রি’ন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.